https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক এক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ক্যানসার চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য সাফল্যের দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, নতুন ধরনের একটি ইনজেকশন অনেক রোগীর টিউমার উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট করতে সক্ষম হয়েছে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে টিউমার পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে গেছে।
‘অ্যামিভান্টাম্যাব’ নামের এই ওষুধটি এমন রোগীদের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে, যাঁদের ক্যানসার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল অথবা পূর্বের চিকিৎসার পর পুনরায় ফিরে এসেছিল। প্রচলিত চিকিৎসায় আশানুরূপ ফল না পাওয়া রোগীদের নিয়েই পরিচালিত হয় এই গবেষণা।
১১টি দেশে পরিচালিত পরীক্ষামূলক গবেষণায় মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত ১০২ জন রোগী অংশ নেন। ফলাফলে দেখা যায়, ৪৩ জনের টিউমার ছোট হয়েছে বা সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গেছে। এর মধ্যে ২৮ জনের টিউমার উল্লেখযোগ্যভাবে সঙ্কুচিত হয়েছে এবং ১৫ জন রোগীর ক্ষেত্রে টিউমারের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
গবেষণার ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির (এএসসিও) বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা এই ফলাফলকে ক্যানসার গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
গবেষকেরা জানিয়েছেন, ফুসফুসের ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রেও এই ওষুধ ইতিবাচক ফল দেখিয়েছে। বর্তমানে মস্তিষ্ক, পাকস্থলী ও মলদ্বারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ওপরও ওষুধটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
জনসন অ্যান্ড জনসন নির্মিত এই ইনজেকশন প্রতি তিন সপ্তাহ অন্তর একবার প্রয়োগ করা হয়। এটি শিরায় নয়, ত্বকের নিচে দেওয়া হয়, ফলে চিকিৎসা তুলনামূলক সহজ ও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার। প্রতি ১০ জনে একজনেরও কম রোগীকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে চিকিৎসা বন্ধ করতে হয়েছে।
গবেষণায় অংশ নেওয়া রোগীদের একজন, ৫৬ বছর বয়সী কার্ল ওয়ালশ, জানান যে চিকিৎসা শুরুর পর তাঁর জিহ্বার ক্যানসারজনিত ফোলা ও ব্যথা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বর্তমানে তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে ও খাবার গ্রহণ করতে পারছেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, এই ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক হলেও ওষুধটির দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।