https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রয়োজনের তুলনায় ৫৮ হাজার ৫৯৮ জন চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তবে সরকারি হাসপাতালগুলোতে অনুমোদিত পদের বিপরীতে চিকিৎসকের শূন্য পদ রয়েছে ১১ হাজার ৪৯৫টি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রীর লিখিত বক্তব্যে এ তথ্য উঠে আসে।
মন্ত্রী জানান, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের জন্য মোট ৪১ হাজার ৮০৬টি পদ অনুমোদিত রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। ফলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ শূন্য রয়েছে।
সংসদে দেওয়া তথ্যে বলা হয়, দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে চিকিৎসকের প্রয়োজন নির্ধারণে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্বাস্থ্য জনবল মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত একটি গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যূনতম মানদণ্ড—প্রতি এক হাজার মানুষের বিপরীতে শূন্য দশমিক ৫০ জন চিকিৎসক—অনুযায়ী ২০২৬ সালে বাংলাদেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন।
বর্তমানে দেশে চিকিৎসক রয়েছেন ৩০ হাজার ৩১১ জন। সেই হিসাবে প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় চিকিৎসকের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫৮ হাজার ৫৯৮ জন।
তবে দেশের মোট চিকিৎসকের সংখ্যা এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় কর্মরত চিকিৎসকের সংখ্যা এক নয় বলেও সংসদে উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদ পূরণ এবং জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন নিয়োগ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এরই মধ্যে ৪৪তম ও ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৭তম ও ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী সার্জন নিয়োগের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।