কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর রাশিয়া ও ইউক্রেনের হামলাকে ‘অবোধগম্য’ বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। একই সঙ্গে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে এরদোয়ান কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা বন্ধে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় তুরস্ক সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথাও জানান এরদোয়ান।
তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, আঙ্কারা ইউক্রেন ও রাশিয়ার কাছে কৃষ্ণসাগরে হামলা বন্ধের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এসব হামলার কয়েকটিতে তুরস্কের মালিকানাধীন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি তুর্কি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে দুই পক্ষের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তুরস্ক।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই কৃষ্ণসাগরে নৌ-চলাচল ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ন্যাটোর সদস্য তুরস্ক একই সঙ্গে মস্কো ও কিয়েভের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে যুদ্ধের অবসানে মধ্যস্থতার চেষ্টা করে আসছে।
আঙ্কারা জানিয়েছে, কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে এমন একটি ব্যবস্থা প্রয়োজন, যার মাধ্যমে নিরাপদে শস্য পরিবহন করা সম্ভব হবে। এ অঞ্চলের ওপর এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার অনেক আমদানিকারক দেশের খাদ্য সরবরাহ নির্ভরশীল।
এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি আয়োজিত ‘ক্রিমিয়ান প্ল্যাটফর্ম’ সম্মেলনে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, মিশর, ভারত ও তুরস্কের মতো দেশগুলোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে কৃষ্ণসাগরে সামুদ্রিক যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে কিয়েভ প্রস্তুত।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সরবরাহ ও শস্যবাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। ইউক্রেনের শস্য আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করতে তুরস্ক ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালের জুলাইয়ে ‘ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ’ স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তির আওতায় ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর থেকে শস্য রপ্তানির জন্য নিরাপদ করিডোর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তবে রাশিয়া পরের বছর চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়। মস্কোর অভিযোগ ছিল, চুক্তির আওতায় রাশিয়ার খাদ্য ও সার রপ্তানির বাধাগুলো দূর করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।

ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে তুরস্ক বিভিন্ন সময়ে কিয়েভকে সহায়তা দিয়েছে এবং দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। একই সময়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেয়নি আঙ্কারা এবং মস্কোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কও বজায় রেখেছে।
যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সরাসরি আলোচনার কয়েকটি পর্ব আয়োজন করেছে তুরস্ক। পাশাপাশি দেশটি বারবার দুই পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানের আহ্বান জানিয়েছে।
এরদোয়ানের সর্বশেষ বক্তব্যে কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা এবং শস্য পরিবহনের পথ সচল রাখার বিষয়টি আবারও তুরস্কের কূটনৈতিক উদ্যোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।