ঢাকা
০৬ জুন ২০২৬
শিরোনাম

ইউরোপে আরও কঠিন হচ্ছে অভিবাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক
শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬   ৮ বার পঠিত
ইউরোপে আরও কঠিন হচ্ছে অভিবাসন

‘গ্লোবাল রিফিউজি ক্রাইসিস ২০২৬’ শীর্ষক নতুন এক প্রতিবেদনে ইউরোপের অভিবাসন ও আশ্রয়নীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের সহ-সম্পাদক এবং জার্মানির এরলাঙ্গেন-নুরেমবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক পেত্রা বেন্ডেল মনে করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন আশ্রয়ব্যবস্থা কার্যকর হলে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

২০২৪ সালে গৃহীত ‘কমন ইউরোপিয়ান অ্যাসাইলাম সিস্টেম’ (সিইএএস) আগামী ১২ জুন থেকে ইইউর সব সদস্য রাষ্ট্রে বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর হবে। পেত্রা বেন্ডেলের আশঙ্কা, এর ফলে ইউরোপের বহিঃসীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য বন্দিশিবির-সদৃশ আবাসন আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশেষ করে যেসব আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন গ্রহণের সম্ভাবনা কম, তাদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের কোনো দেশে স্থাপিত ‘রিটার্ন হাব’ বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্রে রাখার পরিকল্পনা নিয়ে তিনি কঠোর সমালোচনা করেন। তবে জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ক্রিশ্চিয়ান সোশ্যাল ইউনিয়ন (সিএসইউ) দলের নেতা আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট এই ধারণাকে ‘উদ্ভাবনী’ বলে বর্ণনা করেছেন।

প্রস্তাবিত প্রত্যাবাসন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ইইউকে সহযোগী দেশের সহায়তা নিতে হবে। সম্ভাব্য দেশগুলোর মধ্যে টিউনিসিয়া ও মিশরের নাম আলোচনায় রয়েছে, কারণ দেশ দুটি ইউরোপের নিকটবর্তী। এছাড়া রুয়ান্ডা ও উগান্ডার মতো আফ্রিকান দেশেও এমন কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে।

পেত্রা বেন্ডেলের মতে, ভবিষ্যতে আশ্রয়প্রার্থীদের, বিশেষ করে নারী, শিশু এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তিনি আফগান শরণার্থীদের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, জার্মানি আফগান পুনর্বাসন কর্মসূচি স্থগিত করার পর অনেক মানুষ তালেবান শাসনের অধীনে নির্যাতনের ঝুঁকিতে পড়ে গেছেন। বর্তমানে অনেক আফগান আশ্রয়প্রত্যাশী পাকিস্তানে আটকে আছেন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সুরক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে জার্মানির দায়িত্ব রয়েছে এবং সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, ওসনাব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসন গবেষক ফ্রাঙ্ক ড্যুফেল ইইউর নতুন অভিবাসন পরিকল্পনাকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, সংকটকালে এই নীতির বাস্তবায়নে বিভিন্ন অসঙ্গতি দেখা দিতে পারে এবং এর ফলে শিশু, নারী ও পরিবারের মৌলিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে একই সময়ে জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৩ সালে যেখানে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষ আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন, ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজারে। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে মাত্র ২২ হাজার আবেদন নথিভুক্ত হয়েছে। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরে মোট আবেদন ৯০ হাজারেরও নিচে থাকতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ১১ কোটি ৭০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন, যা এক দশক আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এদের অধিকাংশই অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি (আইডিপি), যারা যুদ্ধ, সংঘাত, খরা, বন্যা বা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নিজেদের দেশেই বাসস্থান ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

প্রতিবেদনটি উল্লেখ করেছে, বিশ্বে বাস্তুচ্যুত মানুষের বিশাল অংশ ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকায় পৌঁছাতে পারেন না। ফলে শরণার্থী সংকটের প্রধান চাপ এখনো উন্নয়নশীল ও প্রতিবেশী দেশগুলোকেই বহন করতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নীতিগুলো ইউরোপে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠোর করবে। তবে এর ফলে মানবাধিকার, আশ্রয়ের অধিকার এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষা ব্যবস্থার ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

June 2026
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930