জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার ছায়া বাজেট ঘোষণা করেছে। ‘বাংলাদেশ ২.০: সংস্কার, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি’ শিরোনামে প্রস্তাবিত এই বাজেটের মূল লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং জনকল্যাণ নিশ্চিত করা।
শুক্রবার রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ছায়া বাজেট উপস্থাপন করেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বাড়িয়ে ৯.৩২ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য বিদ্যুৎ সংযোগের সঙ্গে আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা, সম্পদ কর চালু, কর প্রশাসন ডিজিটালাইজেশন এবং কর অব্যাহতি কমানোর মতো পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।
করদাতাদের স্বস্তি দিতে সাধারণ করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, নারী ও প্রবীণদের জন্য ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে করপোরেট করহার ২৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।
শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৪ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, এসএমই খাতে ঋণ সম্প্রসারণ এবং যুব উদ্যোক্তা উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে ৫২ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়ে জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা চালু, দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় ভর্তুকি এবং নতুন সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতাল নির্মাণের কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ব্যাংক খাত সংস্কার, পুঁজিবাজার সম্প্রসারণ এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এনসিপির নেতারা দাবি করেন, এটি শুধু একটি বিকল্প বাজেট নয়; বরং দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও বিনিয়োগবান্ধব ‘বাংলাদেশ ২.০’ গঠনের একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক রূপরেখা।