৫৭টি ট্যাঙ্কারের প্রথম চালান; আল-তানফ সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন ২০০ ট্রাক প্রবেশের প্রস্তুতি
হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক চলাচলে বিঘ্নের মধ্যে সিরিয়ার বন্দর ব্যবহার করে ইরাকে আমদানিকৃত পেট্রোল সরবরাহ শুরু হয়েছে। রোববার সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা এ তথ্য জানিয়েছে।
সানার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ান পেট্রোলিয়াম কোম্পানি ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের বানিয়াস অয়েল টার্মিনালের মাধ্যমে ইরাকের জন্য আমদানিকৃত পেট্রোল পরিবহন শুরু করেছে। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিন মাস মেয়াদি ও নবায়নযোগ্য একটি চুক্তির আওতায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সিরিয়ান পেট্রোলিয়াম কোম্পানির কর্মকর্তা আহমেদ কুব্বাজি জানান, বৃহস্পতিবার ৫৭টি ট্যাঙ্কারের প্রথম চালানের মাধ্যমে সরবরাহ শুরু হয়। বর্তমানে আল-তানফ স্থল সীমান্ত দিয়ে ইরাকে প্রবেশকারী ট্রাকের সংখ্যা প্রতিদিন ২০০টিতে উন্নীত করার প্রস্তুতি চলছে।
কুব্বাজির তথ্য অনুযায়ী, কাতারি প্রতিষ্ঠান ইউসিসি বিভিন্ন বৈশ্বিক উৎস থেকে পেট্রোল সংগ্রহ করছে। আর নির্দিষ্ট ফি-এর বিনিময়ে সিরিয়া জ্বালানি পরিবহনের দায়িত্ব পালন করছে। তিনি বলেন, এই কার্যক্রম আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি আমদানি, রপ্তানি ও পরিবহনে সিরিয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর হিসেবে প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কারণে ইরাকের তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রণালীটি এড়িয়ে বিকল্প রুট হিসেবে গত এপ্রিলে সিরিয়ার ভূখণ্ড দিয়ে ট্রাকের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল পরিবহন শুরু করে বাগদাদ। তবে সমুদ্রপথের তুলনায় এ পথে পরিবহনের পরিমাণ অনেক কম।
কুব্বাজি জানান, এর আগে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ২০০টি ইরাকি তেলবাহী ট্যাঙ্কার সিরিয়ার মধ্য দিয়ে চলাচল করত। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের ক্ষতি কাটিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ।
এদিকে সিরিয়া ও ইরাকের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশ দুটির কর্মকর্তারা। পাইপলাইনটি চালু হলে দুই দেশের মধ্যে তেল পরিবহনের সক্ষমতা আরও বাড়তে পারে।

মন্তব্য করুন