ইসরায়েলি চলচ্চিত্র নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন যে, ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কারজয়ী এবং নিজ দেশে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়া তাঁর তথ্যচিত্র ‘নাজা’ (NAZA) আগামী নভেম্বরে অনলাইনে বিনামূল্যে দেখার সুযোগ করে দেওয়া হবে।
ছবিটি ২৪ জন বেনামী ইসরায়েলি সামরিক ‘হুইসেলব্লোয়ার’ বা তথ্য ফাঁসকারীর সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। তাঁরা অভিযোগ করেছেন যে, গাজায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণকারী ব্যবস্থা ব্যবহার করে সেনাবাহিনী ব্যাপক হারে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করছে।
সহ-পরিচালক i¨vচেল জোর- এর পক্ষ থেকেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ (X)-এ দেওয়া এক বার্তায় আব্রাহাম বলেন, তিনি ছবিটি যথাসম্ভব বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চান যাতে “সত্য বেরিয়ে আসে”। চলচ্চিত্র নির্মাতা লিখেছেন, “গাজায় সরকারের কর্মকাণ্ড, ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষের (যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক) মৃত্যু এবং একটি নির্মূলকারী যুদ্ধের স্বাভাবিকীকরণের বিষয়ে জনমনে বিতর্ক উসকে দেওয়ার লক্ষ্যেই আমি এই ছবিটি তৈরি করেছি।”
‘নাজা’ নামটি এসেছে বিমান হামলায় সম্ভাব্য বেসামরিক হতাহতের ঘটনা বোঝাতে ব্যবহৃত ইসরায়েলি সামরিক পরিভাষা থেকে; এটি হিব্রু ভাষায় ‘কোলাটেরাল ড্যামেজ’ বা ‘পার্শ্ববর্তী ক্ষয়ক্ষতি’ বোঝানো শব্দগুচ্ছের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ।
ছবিটি ইসরায়েলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহর কর্তৃপক্ষের কাছে এই দুই নির্মাতার বিরুদ্ধে “রাষ্ট্রদ্রোহিতার” অভিযোগে তাঁদের নাগরিকত্ব বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিষয়টিকে “হতবাক করার মতো” বলে অভিহিত করেছেন।
ভেনিসে তথ্যচিত্রটি প্রদর্শিত হওয়ার পরপরই, টানা দুই রাতে একদল বিক্ষোভকারী জরের বাবা-মায়ের বাড়ির সামনে মিছিল করে এবং কর্তৃপক্ষের কাছে ওই “বিশ্বাসঘাতকদের বহিষ্কারের” দাবি জানায়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অবশ্য এই অভিযোগগুলো “দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান” করেছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে যে, সাক্ষাৎকারদাতাদের পরিচয় গোপন রাখা এবং কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা তারিখ উল্লেখ না করার কারণে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা অসম্ভব।
তারা পুনরায় উল্লেখ করেছে যে, হামলার সিদ্ধান্ত মানুষেরাই নিয়ে থাকে এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চালানো হয়।
আব্রাহাম বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে “ব্যক্তিগতভাবে চড়া মূল্য” দিতে হলেও তাঁর চলচ্চিত্রটি ইসরায়েলে “উদাসীনতার দেয়াল ভাঙতে” সক্ষম হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, দেশের ভবিষ্যতের জন্য “লড়াই চালিয়ে যেতে” তিনি ও i¨vচেল জর ইসরায়েলে ফিরে আসবেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামাসের চালানো প্রাণঘাতী হামলার জবাবে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হয়। ইসলামপন্থী সংগঠনটির নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে; জাতিসংঘের কাছে এই সংগঠনের দেওয়া পরিসংখ্যান নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।


মন্তব্য করুন