দুই কোরিয়াকে বিভক্তকারী ডিমিলিটারাইজড জোন বা ডিএমজেডে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার দায় রয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। ২১ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনায় এক দক্ষিণ কোরীয় সেনা পা হারান। পরে ঘটনাস্থল থেকে উত্তর কোরিয়ায় তৈরি একটি অবিস্ফোরিত মাইনও উদ্ধার করা হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্যাং শিন-চুল সংসদীয় শুনানিতে বলেন, বিস্ফোরণের জন্য উত্তর কোরিয়ার মাইনকে ‘প্রবলভাবে সন্দেহ’ করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এটি ১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তবে এ ঘটনায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা জাতিসংঘের কমান্ডের সঙ্গে যৌথ অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ডিএমজেড এলাকায় মাইন শনাক্ত ও অপসারণের কাজ করছিলেন। কর্মকর্তারা জানান, আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করলেও ঘন গাছপালার কারণে কিছু মাইন শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের কর্মকর্তারা জানান, ২১ সেপ্টেম্বর দুটি মাইন বিস্ফোরিত হয় এবং সেনারা সরে যাওয়ার সময় আরও একটি অবিস্ফোরিত মাইন পাওয়া যায়। বিস্ফোরণের ধরন, ঘটনাস্থলের গর্ত ও সৈন্যদের আহত হওয়ার মাত্রা বিশ্লেষণ করে উত্তর কোরিয়ার মাইন হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।

১৯৫০-৫৩ সালের কোরিয়া যুদ্ধের অবসান হয়েছিল যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে, চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির মাধ্যমে নয়। ফলে দুই কোরিয়ার মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থা এখনো শেষ হয়নি। ২০১৫ সালেও ডিএমজেড এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে দুই দক্ষিণ কোরীয় সেনা গুরুতর আহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনার জন্য সিউল উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করলেও পিয়ংইয়ং তা অস্বীকার করেছিল।