৩,৯০০-এর বেশি মৃত্যু, সাত প্রদেশের ৬৩ স্বাস্থ্য অঞ্চলে ছড়িয়েছে সংক্রমণ
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে রোগটি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতিও বাড়ছে। দেশটিতে এটি ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব এবং এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব।
কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে, ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাত প্রদেশের ৬৩টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে ৮ হাজার ৬৭ জন আক্রান্ত এবং ৩ হাজার ৯০১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। মৃত্যুর হার ৪৮ শতাংশের বেশি।
বুন্দিবুগিও ভাইরাসের কারণে ১৫ মে এই প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়া হয়। ভাইরাসটির বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো লাইসেন্সপ্রাপ্ত নির্দিষ্ট টিকা বা চিকিৎসা নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, আক্রান্তদের মধ্যে উচ্চ মৃত্যুহার সময়মতো রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইবোলা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীর সংকটও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। পারিশ্রমিক নিয়ে অসন্তোষের জেরে কয়েকটি ধর্মঘট হয়েছে। আফ্রিকা সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে ৫০ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে ইবোলা মোকাবিলায় জনবল ও সম্পদ ব্যবহারের কারণে অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবাতেও চাপ তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় বিষয়ক কার্যালয় (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, ইতুরি প্রদেশে এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে নিয়মিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের হার ১৩ শতাংশ কমেছে।
কিছু এলাকায় নতুন রোগীর সংখ্যা কমলেও অন্যত্র সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। নিরাপত্তাহীনতা, বাস্তুচ্যুতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মঘট ও মানুষের ব্যাপক চলাচল রোগ নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলছে।



মন্তব্য করুন