সিরিয়া সরকার ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের মধ্যে তুরস্কে গোপনে বৈঠক হয়েছে বলে দাবি করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তবে বৈঠকের খবর প্রকাশের পর তা অস্বীকার করেছে তুরস্ক ও সিরিয়া সরকার।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছয়টি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে অন্তত একবার সিরীয় সরকারি কর্মকর্তা ও হিজবুল্লাহ প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠকটি হয়। এতে সিরিয়ার গোয়েন্দা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিরা অংশ নেন বলে সূত্রগুলোর দাবি।

সূত্রগুলো জানায়, তুরস্কের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমানো। আলোচনায় সীমান্তে অস্ত্রপাচার, সিরিয়ায় হিজবুল্লাহর কথিত অবশিষ্ট সেল এবং লেবাননে সিরিয়ার সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ইস্যু উঠে আসে।

এক সিরীয় কর্মকর্তার দাবি, বৈঠকে সিরিয়া হিজবুল্লাহকে আশ্বস্ত করেছে যে লেবাননে গোষ্ঠীটিকে নিরস্ত্র করতে তারা সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করবে না। বিনিময়ে হিজবুল্লাহকে সীমান্তপথে অস্ত্র পাচারের চেষ্টা বন্ধ এবং সিরিয়ায় থাকা তাদের কথিত স্লিপার সেল ভেঙে দিতে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।

তবে হিজবুল্লাহ এসব বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। সম্প্রতি দক্ষিণ সিরিয়ায় রকেট হামলার প্রস্তুতির অভিযোগে হিজবুল্লাহর একটি সেল আটকের কথা জানিয়েছিল সিরিয়া। হিজবুল্লাহ অবশ্য ওই অভিযোগ অস্বীকার করে সিরিয়ায় তাদের কোনো উপস্থিতি বা সামরিক কর্মকাণ্ড নেই বলে দাবি করেছে।

এদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের যোগাযোগ বিষয়ক অধিদফতর। সিরিয়া সরকারের ইংরেজি ভাষার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকেও বৈঠকের খবর অস্বীকার করা হয়েছে।

রয়টার্সের সূত্রগুলোর দাবি, বৈঠকে কিছু নিরাপত্তা ইস্যুতে অগ্রগতি হলেও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। বৈঠকটি প্রকাশ্যে আনারও কোনো পরিকল্পনা ছিল না।