দেশে বর্তমানে ৪৪০টিরও বেশি স্থানে সীমিত পরিসরে ৫জি সেবা চালু রয়েছে। তবে কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও উৎপাদনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের প্রস্তুতির ওপরই বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ ৫জি সেবা চালু অনেকাংশে নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
মন্ত্রী বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ৫জি প্রযুক্তির জন্য উপযোগী শিল্পখাত চিহ্নিত করার কাজ চলছে। একই সঙ্গে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা, ট্রান্সমিশন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ বৃদ্ধির উদ্যোগও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে ঢাকার আবাসিক এলাকা, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও বিভিন্ন জনবহুল স্থানসহ প্রায় ৪০টি এলাকায় ৫জি সেবা রয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, খুলনা ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৪০০টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানও সীমিত ৫জি নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে।
৫জি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ‘৫জি সক্ষমতার জন্য বিটিসিএল অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬৪ জেলা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোকে ব্যাকআপ অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগে যুক্ত করা হচ্ছে। প্রকল্পের প্রায় ৭৯ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ৫জি সেবার জন্য ২.৩ ও ২.৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৭ সালে ৩.৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ড উন্মুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রত্যন্ত অঞ্চলে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর টেলিটক বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ৩,৪২০টি স্থানে উচ্চগতির ৪জি সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে। ভবিষ্যতে আরও ২,০০০ নতুন ৪জি সাইট এবং ১,৬০০টি ৫জি-সক্ষম সাইট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা বাড়াতেও কাজ চলছে। বর্তমানে দুটি সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে প্রায় ৭,২২০ জিবিপিএস সক্ষমতা রয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল (সি-মি-উই-৬) চালু হলে অতিরিক্ত ৩০,০০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ যুক্ত হবে। এতে দেশের মোট আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা প্রায় ৩৮,০০০ জিবিপিএসে পৌঁছাবে।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের চলমান উদ্যোগগুলো বাংলাদেশকে ব্যাপকভিত্তিক ৫জি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নিচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ ৫জি সেবার সফলতা শুধু অবকাঠামো বা স্পেকট্রামের ওপর নয়, বরং শিল্পখাতগুলো কতটা কার্যকরভাবে এই প্রযুক্তি গ্রহণ ও ব্যবহার করতে পারে, তার ওপরও নির্ভর করবে। বাসস