ঢাকা
৩০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে রাজি মিয়ানমার : মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ২০৩১ বিশ্বকাপ সামনে রেখে পূর্বাচল স্টেডিয়াম নিয়ে বড় পরিকল্পনা বিসিবির শাপলা চত্বরের মামলায় গুলশান থেকে গ্রেপ্তার সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী প্রকল্পের সর্বোচ্চ উপযোগিতা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য : তথ্যমন্ত্রী চট্টগ্রামে চলন্ত প্রাইভেটকারে গুলি, কৌশলে প্রাণে বাঁচলেন ব্যবসায়ী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে স্বাগত জানাতে মুখিয়ে আছি : ভারতীয় হাইকমিশনার সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে একমত ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ও নেপালের রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে হাসিমুখে তাহসিন, উপহার পেলেন স্বাক্ষর করা বাস্কেটবল ও ড্রোন চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’ যশোর থেকে গ্রেপ্তার, আটক আরও ৫ শুটার ২১ নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করছে ইউএস-বাংলা, পূর্ণাঙ্গ এভিয়েশন গ্রুপ হওয়ার পথে

ভয়ংকর প্রতারণা ভয়েস ক্লোনিং, বাঁচবেন কীভাবে?

ডেস্ক রিপোর্ট
শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬   ৪৬ বার পঠিত
ভয়ংকর প্রতারণা ভয়েস ক্লোনিং, বাঁচবেন কীভাবে?

ছবি: -সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নতুন ধরনের সাইবার প্রতারণা। এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক একটি হলো ‘ভয়েস ক্লোনিং’ বা কণ্ঠস্বর নকল করে প্রতারণা। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের অডিও নমুনা ব্যবহার করে এখন যে কারও কণ্ঠ প্রায় হুবহু নকল করা সম্ভব, যা সাধারণ মানুষের জন্য শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এক নারী মেয়ের কান্নাভেজা কণ্ঠে সাহায্যের ফোনকল পেয়ে কয়েক হাজার ডলার হারান। পরে তিনি জানতে পারেন, সেটি ছিল এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ভুয়া কণ্ঠস্বর। এমন ঘটনা এখন বিশ্বজুড়েই বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ভয়েস ক্লোনিং, এআই-নির্ভর ফিশিং এবং রোমান্স স্ক্যামসহ বিভিন্ন ধরনের এআই-ভিত্তিক প্রতারণায় আমেরিকানরা ৮৯ কোটি ৩০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ হারিয়েছেন।

প্রতারকরা সাধারণত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও, ভয়েস মেসেজ বা পূর্বের ফোনকল থেকে সংগ্রহ করা অডিও ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তির কণ্ঠস্বরের ডিজিটাল প্রতিরূপ তৈরি করে। এরপর সেই কণ্ঠ ব্যবহার করে পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা পরিচিতজন সেজে ফোন করা হয়।

সাধারণত বলা হয়, প্রিয়জন বিপদে পড়েছে, অপহৃত হয়েছে, দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে বা জেলে রয়েছে। এরপর দ্রুত টাকা পাঠানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে কলার আইডিও জাল করা হয়, ফলে ফোনে পরিচিত নম্বর দেখালেও তা প্রতারকের হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ভয়েস ক্লোনিং প্রযুক্তি এতটাই উন্নত যে শুধু কণ্ঠ শুনে আসল ও নকল আলাদা করা প্রায় অসম্ভব।

এ ধরনের ফোনকল পেলে প্রথমেই শান্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। ভয় বা আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।

কেউ যদি জরুরি ভিত্তিতে টাকা পাঠাতে বলে, নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়, অন্য কাউকে বিষয়টি জানাতে নিষেধ করে বা অস্বাভাবিক পদ্ধতিতে অর্থ পাঠানোর অনুরোধ করে, তাহলে সেটিকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

প্রিয়জনের কাছ থেকে এমন ফোনকল এলে সঙ্গে সঙ্গে অন্য মাধ্যমে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করা জরুরি। যেমন—মোবাইল ফোনে কলব্যাক করা, টেক্সট মেসেজ পাঠানো অথবা তার কাছের অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা।

বিশেষজ্ঞরা পরিবার বা ঘনিষ্ঠ সহকর্মীদের মধ্যে একটি গোপন ‘কোড ওয়ার্ড’ বা সংকেত শব্দ নির্ধারণ করারও পরামর্শ দিয়েছেন। জরুরি পরিস্থিতিতে পরিচয় নিশ্চিত করতে এই কোড ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, প্রতারণার কৌশলও তত আধুনিক হচ্ছে। তাই শুধুমাত্র কণ্ঠস্বর শুনে কাউকে বিশ্বাস না করে তথ্য যাচাই করার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-নির্ভর ভয়েস ক্লোনিং প্রতারণা থেকে সুরক্ষিত থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সচেতনতা, যাচাই-বাছাই এবং আবেগের মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে কোনো আর্থিক সিদ্ধান্ত না নেওয়া।