ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যে মেট্রোরেল ও ইন্টারনেট সেবা সচল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। রোববার (১১ অক্টোবর) মোদি সরকারকে এ নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে বিক্ষোভ ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে সংবিধানের ১৯(২) অনুচ্ছেদের বিধান মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে চলমান আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ।
শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার ও সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে এসব নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট।
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোর নির্দেশ
রোববার শুনানিতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, শনিবার বিক্ষোভ দমনে পুলিশের অভিযানের সময় আইনজীবীসহ সাধারণ নাগরিকদের চলাচলে বাধা দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগও আদালতে তুলে ধরা হয়।
আদালত জানান, দিল্লির বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য শোনা হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল ও জনজীবনে যাতে অযথা ভোগান্তি সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
দিল্লিতে যান চলাচলে বিধিনিষেধের আশঙ্কা
বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে রোববারও দিল্লির বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, সকাল ৬টা থেকে পরিস্থিতি বিবেচনায় যানবাহন অন্য পথে পরিচালিত হতে পারে। নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লির প্রায় ৩০টি স্থানে বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
শনিবার জন্তর মন্তরে প্রবেশ বন্ধ থাকায় আন্দোলনকারীদের একাংশ দিল্লি হাট এলাকায় জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। পরে সেখান থেকেও কয়েকজনকে আটক করা হয়।
এদিকে, মুম্বাইয়ে সিজেপির আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভ হয়েছে। সেখানে আগস্ট ক্রান্তি ময়দান বন্ধ করে দেয় পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী।
দিল্লির পরিস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ জনজীবন স্বাভাবিক রাখা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিকে নতুন করে সামনে এনেছে।

মন্তব্য করুন