যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের এরি শহরে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন বন্দুকধারীও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, হামলার পর নিজের শরীরে গুলি চালিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) এরি শহরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। হামলার পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে নিহতদের পরিচয়, হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান এবং কীভাবে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে এরি শহরের পুলিশপ্রধান রিক লোরা বলেন, তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখেননি। ২৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তাঁর মতে, এত বড় প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ এরি শহর আগে কখনো প্রত্যক্ষ করেছে কি না, তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
এদিকে, হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
পেনসিলভেনিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এরি শহরের মেয়র ডারিয়া ডেভলিনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছে। এ ঘটনায় শহর কর্তৃপক্ষকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
এখন পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। নিহত আটজনের নাম-পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি। সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর পরিচয়, তাঁর সঙ্গে নিহতদের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না এবং হামলার পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণ কাজ করেছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে পেনসিলভেনিয়ার এই ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে হামলার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা করতে হবে।

মন্তব্য করুন