চলতি আইপিএলে শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিলেন বিরাট কোহলি। তবে মাঝের কয়েক ম্যাচে ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি, টানা দুই ম্যাচে শূন্য রানে আউটও হন। সেই হতাশা কাটিয়ে এবার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছেন তিনি। রেকর্ডগড়া নবম আইপিএল সেঞ্চুরিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে হারিয়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে তুলেছেন এই ভারতীয় তারকা।
রায়পুরে আগে ব্যাট করে কলকাতা ২০ ওভারে ৪ উইকেটে তোলে ১৯২ রান। দলের হয়ে অঙ্ক্রিশ রঘুবংশী ৪৬ বলে ৭১ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৩টি ছক্কা। রিংকু সিং ২৯ বলে অপরাজিত ৪৯ রান যোগ করেন। বেঙ্গালুরুর হয়ে ভুবনেশ্বর কুমার, জশ হ্যাজলউড ও রাসিখ সালাম নেন একটি করে উইকেট।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন কোহলি। ৬০ বলে ১১টি চার ও ৩টি ছক্কায় অপরাজিত ১০৫ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। দেবদূত পাডিক্কাল ৩৯ রান করলেও জ্যাকব বেথেল, রজত পাতিদার ও টিম ডেভিড দ্রুত ফিরেছেন। তবুও ৫ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় বেঙ্গালুরু।
এই জয়ে ১২ ম্যাচ শেষে বেঙ্গালুরুর পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ১৬। সমান পয়েন্ট থাকলেও রানরেটে এগিয়ে থেকে শীর্ষে উঠেছে তারা।
আইপিএলে এটি কোহলির নবম সেঞ্চুরি, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জস বাটলারের সেঞ্চুরি সংখ্যা ৭। সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কোহলির এটি দশম সেঞ্চুরি। এই তালিকায় সবার ওপরে আছেন ক্রিস গেইল, তার সেঞ্চুরি ২২টি। বাবর আজম করেছেন ১৩টি, আর ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে সমান ১০টি সেঞ্চুরি এখন কোহলির।
কলকাতার বিপক্ষে এটি কোহলির দ্বিতীয় আইপিএল সেঞ্চুরি। এর আগে গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষেও একাধিক সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। আইপিএলে ভিন্ন দুটি দলের বিপক্ষে একাধিক সেঞ্চুরির কীর্তি আছে কেবল কোহলি ও জস বাটলারের।
এদিনের ইনিংস খেলার পথে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১৪ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন কোহলি। সবচেয়ে কম ইনিংসে এই কীর্তি গড়েছেন তিনি। ১৪ হাজার রান করতে তার লেগেছে ৪০৯ ইনিংস, যেখানে ক্রিস গেইলের লেগেছিল ৪২৩ ইনিংস।
এ ছাড়া আইপিএলে সর্বোচ্চ ২১ বার ম্যাচসেরা হওয়ার রোহিত শর্মার রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছেন কোহলি। এই ম্যাচের পুরস্কার জিতে তিনিও এখন ২১ বার ম্যাচসেরা হয়েছেন।