ঢাকা
২৮ আগস্ট ২০২৬

বড় বাজেট তবে বাস্তবায়ন সম্ভব, সরকারের প্রস্তাবকে স্বাগত এফবিসিসিআইয়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬   ৫১ বার পঠিত
বড় বাজেট তবে বাস্তবায়ন সম্ভব, সরকারের প্রস্তাবকে স্বাগত এফবিসিসিআইয়ের

ছবি: -সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। তাদের মতে, বাজেটের আকার বড় হলেও সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

সংগঠনটি বলছে, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীল করতে সরকারের ঘোষিত ‘৩ আর’ কৌশল—রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন, রেস্টোরেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন—বর্তমান বাস্তবতায় একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য সামনে রেখে বাজেটের আকারকেও তারা বাস্তবসম্মত বলে মনে করছে।

তবে এফবিসিসিআইয়ের মতে, বাজেট বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে রাজস্ব আদায়। প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে এনবিআরের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এত বড় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে কাঠামোগত সংস্কার ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করে সংগঠনটি।

বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক করেছে এফবিসিসিআই। তাদের আশঙ্কা, সরকার বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রবাহ কমে যেতে পারে, যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ কারণে স্থানীয় ব্যাংকের পরিবর্তে স্বল্পসুদের বৈদেশিক অর্থায়নের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে তারা।

প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক ঋণের চাপ এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতাকে বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছে ব্যবসায়ীদের এই সংগঠন।

ব্যবসাবান্ধব বেশ কয়েকটি পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেছে এফবিসিসিআই। কাঁচামাল আমদানিতে আগাম কর কমানো, কৃষিপণ্য ও মৌলিক খাদ্যপণ্যে উৎসে কর নির্ধারণ, ল্যাপটপ ও কম্পিউটার আমদানিতে শুল্ক-ভ্যাট প্রত্যাহার, স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের টার্নওভার ট্যাক্স শূন্যে নামিয়ে আনা এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবকে তারা ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছে।

একই সঙ্গে ব্যক্তি পর্যায়ে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি। তবে সর্বোচ্চ আয়কর হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি কর প্রশাসনকে পুরোপুরি অটোমেশনের আওতায় আনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে।

এফবিসিসিআই জানিয়েছে, তারা বাজেট ও অর্থবিলের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করছে। সদস্য সংগঠনগুলোর মতামত সংগ্রহের পর শিগগিরই সরকারের কাছে বিস্তারিত সুপারিশ জমা দেওয়া হবে।