ছবি: -সংগৃহীত
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাস, রাজনীতি ও রাষ্ট্রচিন্তার গতিপ্রবাহ নির্ধারিত হয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে। দেশের মানুষের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম, ইতিহাস ও প্রত্যাশাই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নির্মাণের মূল শক্তি।
শনিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনাতয়নে ‘আমরা বাংলাদেশি’ আয়োজিত ‘দেশ পুনর্গঠনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জনগণের কণ্ঠস্বরই সব ধরনের কৃত্রিম বয়ানকে ভেঙে দিতে সক্ষম। গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য এবং রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রাকে শক্তিশালী করতে জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণের বিকল্প নেই।
বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশের মানুষ ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি স্বতন্ত্র জাতিসত্তা গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশের স্বকীয়তা এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা এ দেশের বাস্তবতা ও ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার মধ্য থেকেই বিকশিত হয়েছে।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণার মাধ্যমে দেশের মানুষের স্বতন্ত্র পরিচয়কে রাজনৈতিক দর্শনে রূপ দিয়েছিলেন। ভাষাগত, সাংস্কৃতিক, নৃতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই জাতীয়তাবাদ এখনো বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সম্পর্কের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে জাতীয় স্বার্থ। দক্ষিণ এশিয়ায় সহযোগিতা বাড়াতে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা-কে আরও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক পরিসরে জাতিসংঘ-এর কাঠামোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তার মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ এহসানুল হুদা। প্রধান আলোচক ছিলেন মাহবুবুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নুরুল হক নুর, শাহাদাত হোসেন সেলিম, সাইফুল হক এবং রাশেদ খান।
বক্তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় স্বার্থভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তা প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।