ছবি: -সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ ও অভিবাসননীতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাংক ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টানদের মধ্যেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রয়টার্স-ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, এই ধর্মীয় গোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য অংশ মনে করছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু নীতি তাদের খ্রিষ্টীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
৩ থেকে ৮ জুন পরিচালিত জরিপে অংশ নেওয়া ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টানদের ৫৪ শতাংশ বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। একইভাবে ৫১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসননীতি খ্রিষ্টীয় মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে যায় না।
এই মতভেদের পরও ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। জরিপ অনুযায়ী, ইভানজেলিক্যাল ভোটারদের মধ্যে এখনও তাঁর সমর্থন ৫২ শতাংশ। তবে গত আগস্টে এই হার ছিল ৬১ শতাংশ, যা জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত এবং এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় চাপ তৈরি করেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে অনেক ধর্মপ্রাণ ভোটারও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টানরা দীর্ঘদিন ধরেই রিপাবলিকান পার্টির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালের নির্বাচনে শ্বেতাঙ্গ ইভানজেলিক্যাল ভোটারদের ৮১ শতাংশ ট্রাম্পকে সমর্থন করেছিলেন।
তবে এখন সেই সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যেই বিভক্তির আভাস দেখা যাচ্ছে। ইন্ডিয়ানার ৬৩ বছর বয়সী ভোটার স্যান্ডি মিলার বলেন, সুযোগ পেলে তিনি আর ট্রাম্পকে ভোট দিতেন না। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের নীতির কারণে তাঁর মেয়ের স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত সরকারি সহায়তা কমে গেছে। তবে ব্যক্তিগত ক্ষতির চেয়েও ধর্মীয় মূল্যবোধই তাঁর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে বেশি প্রভাব ফেলে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে ট্রাম্পের সমর্থক অনেক ইভানজেলিক্যাল এখনও তাঁর পাশে রয়েছেন। আইওয়ার বাসিন্দা ৭৭ বছর বয়সী কনি রিস মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ আত্মরক্ষার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলকে সমর্থনকে ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ হিসেবেও দেখেন।