https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
তিন মাসের সংঘাতের পর যুদ্ধ অবসানের পথে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই দেশের মধ্যে একটি প্রাথমিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে যে কোনো সময় চুক্তিটি সই হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুত ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হবে।
এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও জানান, শান্তিচুক্তির বিষয়ে পক্ষগুলো আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং এরপরই তা ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বাক্ষর করা হবে।
তবে ইরান কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, চুক্তি রোববারই হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এটি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে এতটা আশাবাদ দেখা গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও বলেছেন, সমঝোতা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সব বিষয়ে চূড়ান্ত ঐকমত্য না হওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং ইরানের জব্দ অর্থের একটি অংশ ছাড় দেওয়ার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
তবে সবচেয়ে স্পর্শকাতর পারমাণবিক ইস্যুটি প্রাথমিক চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে পৃথক আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনো স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, ইরান নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি বাতিল এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস বা অন্যত্র সরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু তেহরান এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে নেওয়া হবে না; বরং তা দেশের ভেতরেই সংরক্ষণ করে সমৃদ্ধির মাত্রা কমানো হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, নিজেদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত আরও সুরক্ষিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিয়েছে ইরান। সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে যাতে এসব মজুত জব্দ করা না যায়, সে জন্য কিছু টানেল ধ্বংস এবং বিভিন্ন প্রবেশপথে বিস্ফোরক মাইন স্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূচনা হয়। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল দুই দেশ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। একাধিক দফা আলোচনার পর এবার একটি প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। যদি চুক্তিটি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সবচেয়ে বড় সংঘাতের অবসানের পথ উন্মুক্ত হতে পারে।