https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ভিত্তিক ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
লন্ডন থেকে এশিয়ার একটি দেশের উদ্দেশে যাত্রা করা বেনজীর আহমেদের পরিকল্পনা ছিল দুবাইয়ে ট্রানজিট নেওয়ার পর চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছানো। তবে ট্রানজিটের সময় দুবাই বিমানবন্দরে নামার পর ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার মধ্যেই তিনি শনাক্ত হন।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরের এআইভিত্তিক ফেস রিকগনিশন সিস্টেম তার পরিচয় শনাক্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধীদের ডাটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। সেখানে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ থাকার তথ্য পাওয়ার পর দুবাই পুলিশ তাকে আটক করে।
বাংলাদেশ পুলিশের এক কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়, পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে এ বিষয়ে এখনো দুবাই পুলিশ, ইন্টারপোল বা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
এদিকে রোববার সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তিনি বর্তমানে আটক রয়েছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিলে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। পরে দুদকের করা একাধিক মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও আনা হয়।
একসময় দেশের প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত বেনজীর আহমেদ ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আইজিপির দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি র্যাবের মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ছিলেন।
২০২৪ সালের শুরুতে তার বিপুল সম্পদ নিয়ে গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরে দুদক তার ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা করে।
তদন্তে তার ও পরিবারের নামে বিপুল সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও কোম্পানির শেয়ারের তথ্য পাওয়া যায়, যার একটি অংশ আদালতের নির্দেশে জব্দ করা হয়।
৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।