https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
বিশ্ব ফুটবলে জাপানকে অনেকেই ‘এশিয়ার গর্ব’ বলে থাকেন। ডালাস স্টেডিয়ামে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ড্রয়ের মাধ্যমে সেই পরিচয়ের আরেকটি প্রমাণ দিল সামুরাই ব্লুরা। দুবার পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত লড়াই করে শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে জাপান।
শক্তিতে ফিফা তালিকায় নেদারল্যান্ডস পঞ্চম এবং জাপান আঠারোতম হলেও মাঠের খেলায় সেই পার্থক্য খুব একটা দেখা যায়নি। বরং ম্যাচজুড়ে নিজেদের লড়াকু মানসিকতা এবং প্রত্যাবর্তনের ক্ষমতা দেখিয়েছে জাপান।
প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবে শেষ হলেও বিরতির পর ম্যাচে আসে চারটি গোল। ৫১ মিনিটে অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইকের গোলে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। রায়ান গ্রাভেনবার্চের ক্রস থেকে হেডে গোল করেন ডাচ অধিনায়ক। বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এটি ছিল তার প্রথম গোল।
তবে মাত্র ছয় মিনিটের ব্যবধানে সমতায় ফেরে জাপান। বাম দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে কেইতো নাকামুরার নেওয়া শট ডাচ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়ায়।
৬৪ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। এবারও সহায়তা করেন গ্রাভেনবার্চ, আর গোল করেন ক্রিসেনসিও সামারভিল। তার নিখুঁত শট ঠেকাতে পারেননি জাপানের গোলরক্ষক জিওন সুজুকি।
দ্বিতীয়বার পিছিয়ে পড়ার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে জাপান। একের পর এক আক্রমণে ডাচ রক্ষণকে চাপে রাখে তারা। শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টার ফল মেলে ম্যাচের ৮৮ মিনিটে। কর্নার থেকে আসা বলে কোকি ওগাওয়ার হেডের পর দাইচি কামাদার মাথা ছুঁয়ে বল জালে ঢুকে যায়। ফলে ২–২ সমতায় ফেরে জাপান।
সমতাসূচক গোলের পর ডালাস স্টেডিয়ামে উপস্থিত প্রায় সত্তর হাজার দর্শকের মধ্যে জাপানি সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। ম্যাচ শেষে তাদের উদ্যাপনই যেন বলে দিচ্ছিল, এই ড্র তাদের কাছে জয়ের সমান।
এই ফলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচ অপরাজিত থাকার কীর্তি গড়ল জাপান। কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনকে হারানোর সময়ও তারা পিছিয়ে পড়ে ফিরে এসেছিল। এবারও সেই পরিচিত দৃঢ়তা দেখাল এশিয়ার দলটি।
অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসও একটি রেকর্ড ধরে রেখেছে। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে টানা সতেরো ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে ডাচরা। তবে দুবার এগিয়ে গিয়েও জয় না পাওয়ায় হতাশা থাকবেই তাদের শিবিরে।
এফ গ্রুপে দুই দলই এক পয়েন্ট করে পেয়েছে। বিশ্বকাপের শুরুতে এশিয়ার দলগুলোর পারফরম্যান্সও নজর কাড়ছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়া নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতেছে, আর কাতার ও জাপান পিছিয়ে পড়েও ড্র করে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট আদায় করেছে।