https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
দীর্ঘ সময় গোলশূন্য থাকা ম্যাচের নিষ্পত্তি হলো একেবারে শেষ মুহূর্তে। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ইকুয়েডরকে ১–০ গোলে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে আইভরি কোস্ট। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন বদলি হিসেবে নামা আমাদ দিয়ালো।
শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। ইকুয়েডর প্রথম দিকে আক্রমণে বেশি প্রভাব বিস্তার করলেও গোলের দেখা পায়নি। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই মইসেস কাইসেদোর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর ১০ মিনিটে এনার ভ্যালেন্সিয়া বক্সের ভেতর থেকে পাওয়া সহজ সুযোগ নষ্ট করেন।
২৩ মিনিটে জন ইয়েবোয়া প্রায় অবিশ্বাস্য এক গোল করতে যাচ্ছিলেন। আইভরি কোস্টের এক ডিফেন্ডারের ভুলের সুযোগ নিয়ে নেওয়া তার বাঁকানো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। সাত মিনিট পর আবারও ক্রসবারে বাধা পায় ইকুয়েডর। অ্যালান মিন্দার শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও বার রক্ষা করে আইভরি কোস্টকে।
অন্যদিকে আইভরি কোস্টও কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে। ফ্রাঙ্ক কেসিয়ের পাস থেকে তোরের শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। পরে নিকোলাস পেপের জোরালো প্রচেষ্টা শেষ মুহূর্তে ঠেকিয়ে দেন ইকুয়েডরের রক্ষণভাগ।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে উইলফ্রিড সিঙ্গোর বাইসাইকেল কিকও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ–প্রতি আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। ৫২ মিনিটে দিয়োমান্দের ক্রস থেকে এলিয়ে ওয়াহির শট আবারও ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ম্যাচে এটি ছিল তৃতীয়বারের মতো বার কাঁপানোর ঘটনা।
৬৮ মিনিটে ইকুয়েডর গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছায়। গনসালো প্লাতার বাঁকানো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন আইভরি কোস্টের গোলরক্ষক ইয়াহিয়া ফোফানা।
ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল, তখনই আসে নাটকীয় মুহূর্ত। নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিটে উইলফ্রিড সিঙ্গো ডান প্রান্ত দিয়ে এগিয়ে এসে বক্সের সামনে নিখুঁত কাটব্যাক করেন। সেখানে অপেক্ষায় থাকা আমাদ দিয়ালো বাম পায়ের শটে বল জালে পাঠিয়ে আইভরি কোস্টকে এগিয়ে দেন।
গোল হজমের পর ইকুয়েডর শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও সফল হতে পারেনি। দৃঢ় রক্ষণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ খেলায় শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে আফ্রিকার দলটি।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠে আইভরি কোস্ট শিবির। অন্যদিকে একাধিক সুযোগ নষ্ট এবং দুইবার ক্রসবারে আঘাত হানার আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ইকুয়েডরকে।
বিশ্বকাপের শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সূচনা করল আইভরি কোস্ট। আর ম্যাচের নায়ক হয়ে থাকলেন আমাদ দিয়ালো, যার শেষ মুহূর্তের গোলই গড়ে দিল দুই দলের পার্থক্য।