https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। নথিগুলো চূড়ান্ত করার পর কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হবে।
সোমবার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির মামলাগুলোর নথি প্রস্তুতের কাজ চলছে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেগুলো পাঠানো হবে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিভিত্তিক ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশটির আইনের আওতায় গ্রেপ্তারের পর ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের আবেদন করতে হবে।
প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে বেনজীর আহমেদের পরিচয়, ছবি, জাতীয়তা, ঠিকানা, অভিযোগের বিবরণ, সংশ্লিষ্ট আইন, শাস্তির বিধান, আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং মামলার তদন্ত-সংক্রান্ত নথি সংযুক্ত করতে হবে। এসব নথি আরবি ভাষায় অনূদিত এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত হতে হবে।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জারি করা আন্তর্জাতিক রেড নোটিশের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুর্নীতি ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ একাধিক মামলায় তিনি অভিযুক্ত। দুদকের তদন্তে তার বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য উঠে আসে, যার মধ্যে দেশে-বিদেশে জমি, ফ্ল্যাট এবং ব্যাংক হিসাবও রয়েছে।
দুদকের এক মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন এবং বিপুল পরিমাণ সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি। অন্য একটি মামলায় অভিযোগ রয়েছে, সরকারি উচ্চপদে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও তিনি ব্যক্তিগত চাকরিজীবী পরিচয় ব্যবহার করে পাসপোর্ট নিয়েছেন এবং এ ক্ষেত্রে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ মোট ছয়টি মামলা চলমান রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে জানিয়েছেন, ইন্টারপোলের সহযোগিতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তিনি এখন সেখানে আটক আছেন। সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
দুদক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব নথি পাঠানো সম্ভব হলে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যাবে।