ঢাকা
২৮ আগস্ট ২০২৬

জনগণের ভালোবাসাই বড় শক্তি, নিরাপত্তা যেন জনবিচ্ছিন্নতা তৈরি না করে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬   ৪৫ বার পঠিত
জনগণের ভালোবাসাই বড় শক্তি, নিরাপত্তা যেন জনবিচ্ছিন্নতা তৈরি না করে : প্রধানমন্ত্রী

ছবি: -সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার প্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত নয়, যা সরকার প্রধানকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

বৃহস্পতিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের প্রধান দায়িত্ব হলেও দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের দুর্ভোগ বা দুর্ব্যবহারের শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের তুলনায় বর্তমানে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি জটিল ও বহুমাত্রিক। আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এসএসএফের ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় চার দশক আগে বিশেষ নিরাপত্তা প্রয়োজনের প্রেক্ষাপটে বাহিনীটি গঠিত হয় এবং ১৯৯১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স’ নামে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে।

এসএসএফের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন মেয়াদে দায়িত্ব পালনকালীন সময় থেকে শুরু করে জীবনের শেষ পর্যায়ে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও বাহিনীটি আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। তার মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত বৃহৎ জানাজা আয়োজনেও এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জনগণের ভোগান্তি কমাতে তিনি নিজের গাড়িবহরের আকার সীমিত রেখেছেন। বর্তমান বাস্তবতায় সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে দক্ষতা, সমন্বয় এবং নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনসভা এবং রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে সরকার প্রধানের নিরাপত্তা ও নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে এসএসএফকে দায়িত্ব পালন করতে হয়।

নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জের উদ্বোধনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা ও নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, এসএসএফ-এর আধুনিকায়ন এবং কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি বাহিনীর সদস্যদের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, পেশাদারিত্ব এবং ‘চেইন অব কমান্ড’ কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধান, এসএসএফ প্রধান এবং বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।