ঢাকা
২৮ আগস্ট ২০২৬

চীনে রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলারের দ্বারপ্রান্তে, প্রধানমন্ত্রীর সফরে বড় অগ্রগতির আশা

ডেস্ক রিপোর্ট
শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬   ২১ বার পঠিত
চীনে রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলারের দ্বারপ্রান্তে, প্রধানমন্ত্রীর সফরে বড় অগ্রগতির আশা

ছবি: -সংগৃহীত

চীনের বিশাল বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি প্রথমবারের মতো ১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে যাচ্ছে। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ মাসে চীনে প্রায় ৭৪ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা বছরের শেষ নাগাদ ১ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছোঁয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

শিল্প খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীনের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়া সত্ত্বেও রপ্তানি প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ১৬ শতাংশে পৌঁছানোকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ অবস্থায় আসন্ন প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকে কেন্দ্র করে রপ্তানি আরও সম্প্রসারণের আশা করছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা। বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) মতে, এই সফরের মাধ্যমে আগামী দুই বছরের মধ্যে চীনে রপ্তানি ৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, চীনের বাজারে বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো পণ্য বৈচিত্র্যের ঘাটতি এবং উৎপাদন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা। তৈরি পোশাক খাতের বাইরে চামড়া, পাটজাত পণ্য, প্লাস্টিক, সিরামিক, হালকা প্রকৌশল পণ্য এবং কৃষিপণ্য রপ্তানির ওপর গুরুত্ব বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, চীনের মতো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক দেশে প্রবেশের বড় সুযোগ থাকলেও সেটি কাজে লাগাতে হলে দীর্ঘমেয়াদি রপ্তানি কৌশল, মান নিয়ন্ত্রণ এবং লজিস্টিক সক্ষমতা উন্নয়ন জরুরি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো আমদানির তুলনায় অনেক কম, ফলে বাণিজ্য ঘাটতি বড় আকারে রয়ে গেছে। ১০ মাসে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চীনের দেওয়া প্রায় শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে নতুন পণ্য উদ্ভাবন, চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং যৌথ উৎপাদন উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন। এতে শুধু রপ্তানি নয়, সামগ্রিক বাণিজ্য ভারসাম্যেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।