https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও টেকসই করতে স্থানীয় ব্যাংকের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নের দিকে এগোচ্ছে সরকার বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার রাজধানীর গুলশানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত বাজেট-পর্যালোচনা সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের অতিরিক্ত ব্যাংক ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ১০ থেকে ১৩ শতাংশ সুদে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অর্থায়ন ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। এ কারণে ২০২৫-২৬ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংকনির্ভর ঋণ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, সরকার ধীরে ধীরে বাজারভিত্তিক ও বিকল্প অর্থায়নের উৎস ব্যবহারের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যাতে বেসরকারি খাতের জন্য অর্থের প্রাপ্যতা বাড়ে এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়।
বাজেট প্রণয়নের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে চলতি বাজেট প্রস্তুত করতে হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বিভিন্ন বকেয়া দায়ও বর্তমান সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বকেয়া বিল রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চলতি বাজেটে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণের সুদ ও ঋণপরিশোধে ব্যয় করতে হবে, যা সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর বড় চাপ তৈরি করছে এবং উন্নয়ন ব্যয়ের সুযোগ সীমিত করছে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার সরাসরি সুবিধাভোগীদের কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে গৃহিণীদের আর্থিক স্বীকৃতি ও সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি কৃষক, প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্যও সরাসরি সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে স্কিল ডেভেলপমেন্ট, রিস্কিলিং ও আপস্কিলিং কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে চিকিৎসা ব্যয় কমাতে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে অর্থনীতি, শিল্প, শ্রম ও বিনিয়োগ খাতের বিভিন্ন বিষয়ে গবেষক, ব্যবসায়ী নেতা এবং শ্রমিক প্রতিনিধিরা মতামত তুলে ধরেন।