https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
দেশে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে, যা গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৩ মে সকাল পর্যন্ত দেশে মোট ৫৩ হাজার ৫৬ জন হাম-সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭ হাজার ১৫০ জনের হাম নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬৩ জনে, যার মধ্যে ৬৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামজনিত বলে শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যে দেখা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত ৩৮ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্ত ও মৃতদের বেশিরভাগই শিশু হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সর্বশেষ বড় হাম প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল ২০০৫ সালে। সে বছর আক্রান্ত হয়েছিল ২৫ হাজার ৯৩৪ জন। কিন্তু চলতি বছরে আক্রান্তের সংখ্যা সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়ানোর পর এটিকে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা উচিত ছিল। তার মতে, এমন ঘোষণা না থাকায় সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ভাইরোলজিস্ট ডা. মাহবুবা জামিল বলেন, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা গেলে আগামী কয়েক সপ্তাহে সংক্রমণ কমতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদানে ঘাটতি, অপুষ্টি এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেই দেশে হঠাৎ বড় ধরনের হাম প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা–এর তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে ৫০ হাজারের বেশি হাম আক্রান্তের ঘটনা রিপোর্ট করা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এখন পঞ্চম।