https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি লড়াই করেছিল শেষ পর্যন্ত। পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফিরেছিল, আক্রমণও বাড়িয়েছিল দ্বিতীয়ার্ধে। কিন্তু গোলের সামনে ব্যর্থতা, রক্ষণে একের পর এক ভুল আর চাপের মুহূর্তে আত্মবিশ্বাস হারানোর মাশুল গুনতে হয়েছে তাদের। শেষ পর্যন্ত প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে জার্মানদের।
ম্যাচের শুরু থেকেই রক্ষণভাগে ছিল অস্থিরতা। প্যারাগুয়ের প্রথম গোলের সময় জুলিও এনসিসোকে প্রায় বিনা বাধায় হেড করার সুযোগ দেয় জার্মান ডিফেন্ডাররা। সেই এক মুহূর্তেই স্পষ্ট হয়ে যায় মার্কিং, অবস্থান আর সমন্বয়ের ঘাটতি। টানা ১০ ম্যাচে গোল হজমের ধারাবাহিকতাও রক্ষণভাগের এই দুর্বলতারই প্রতিফলন।
মাঝমাঠেও দেখা যায় পরিচিত আধিপত্যের অভাব। বলের দখল থাকলেও সেটিকে কার্যকর আক্রমণে রূপ দিতে পারেনি জার্মানি। রক্ষণ থেকে আক্রমণে উঠতে সময় নেওয়ায় প্যারাগুয়ে সহজেই নিজেদের ডিফেন্স গুছিয়ে নেয়। সুযোগ তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে ভুল সিদ্ধান্ত ও ফিনিশিংয়ের কারণে বারবার থেমে যায় জার্মানদের আক্রমণ।
শুরুর একাদশ নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নতুন কৌশল ও ভিন্ন কম্বিনেশন কাজে লাগানোর চেষ্টা করলেও তা প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। ফলে দল আক্রমণ ও মাঝমাঠ—দুই জায়গাতেই ছন্দ হারায়। দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্তন এনে কিছুটা গতি ফিরলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিতে পারেনি তারা।
অতিরিক্ত সময়ে জোনাথন তাহের সম্ভাব্য জয়সূচক হেড ভিএআরের সিদ্ধান্তে বাতিল হয়ে যাওয়াও বড় ধাক্কা হয়ে আসে। সেই মুহূর্তের পর জার্মান খেলোয়াড়দের মানসিকতায় স্পষ্ট প্রভাব পড়ে। ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও আগের ধার আর দেখা যায়নি।
শেষ পর্যন্ত ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। আর সেখানেই ভেঙে পড়ে জার্মানির সবচেয়ে বড় শক্তি—চাপের মধ্যে নিখুঁত থাকার ঐতিহ্য। গুরুত্বপূর্ণ শট মিস, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি এবং প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় শুটআউটে হার মেনে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
প্যারাগুয়ের কাছে জার্মানির হার কেবল টাইব্রেকারের ফল নয়; রক্ষণে ভুল, মাঝমাঠে ছন্দহীনতা, আক্রমণে অদক্ষতা এবং চাপের মুহূর্তে ভেঙে পড়াই তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্নের ইতি টেনেছে।