ঢাকা
৩০ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার শুরু হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী গুমের শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে গত দুই বছর আন্ডারমাইনিং করা হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে নিহত ২৭ হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজারে প্লাবনের শঙ্কা আসামিদের আইনি সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত রংপুর আইনজীবী সমিতির ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আরেক ছিনতাইকারী নিহত ঢাকার যানজট কমাতে বাস টার্মিনাল পুনর্বিন্যাসসহ প্রধানমন্ত্রীর ৭ নির্দেশনা ৩১ ঘণ্টার যানজটের পর ধীরে চলছে গাড়ি, এখনো ভোগান্তি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯৯৪ ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ হাসনাত আবদুল্লাহর

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬   ৩৫ বার পঠিত
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

ছবি: -সংগৃহীত

কুষ্টিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ছয়জনকে হত্যাসহ আটটি অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলায় আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তৃতীয় অভিযোগে ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ষষ্ঠ ও সপ্তম অভিযোগে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং পৃথকভাবে ১০ বছর করে সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রথম, দ্বিতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও অষ্টম অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। পৃথক দণ্ডাদেশ থাকলেও কার্যত তাকে ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে।

রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে ইনুকে হাজতখানা থেকে আদালতে আনা হয়। পরে প্রায় ২১১ পৃষ্ঠার রায় পাঠ শুরু হয়। বিচারক শাহরিয়ার কবীর অভিযোগগুলোর বিবরণ তুলে ধরেন এবং বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ সাক্ষ্য-প্রমাণের বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেন। পুরো রায় ঘোষণার কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় এবং ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। সেদিনই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরবর্তী শুনানি শেষে ২ নভেম্বর আটটি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আদালত।

মামলায় প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করা হয় গত বছরের ৩০ নভেম্বর এবং ১ ডিসেম্বর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জন সাক্ষী প্রসিকিউশনের পক্ষে সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষের দুইজন সাফাই সাক্ষীও আদালতে জবানবন্দি দেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে চলতি বছরের ২ এপ্রিল থেকে যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে ১৪ মে শেষ হয়। ওই দিন মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয় এবং পরে ৩০ জুন রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়।

মামলায় মোট ১০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী, দুজন বিশেষজ্ঞ, একজন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য, দুজন জব্দতালিকা সাক্ষী, একজন জেলার সাক্ষী এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা। পাশাপাশি আদালতে ২০ সিরিজ নথি ও পাঁচটি বস্তুগত আলামত উপস্থাপন করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য, বৈঠকে অংশগ্রহণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ইনু আন্দোলন দমনে ভূমিকা রাখেন। প্রসিকিউশনের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণে ছয়জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সম্পন্ন হয়।