ঢাকা
৩০ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার শুরু হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী গুমের শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে গত দুই বছর আন্ডারমাইনিং করা হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে নিহত ২৭ হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজারে প্লাবনের শঙ্কা আসামিদের আইনি সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত রংপুর আইনজীবী সমিতির ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আরেক ছিনতাইকারী নিহত ঢাকার যানজট কমাতে বাস টার্মিনাল পুনর্বিন্যাসসহ প্রধানমন্ত্রীর ৭ নির্দেশনা ৩১ ঘণ্টার যানজটের পর ধীরে চলছে গাড়ি, এখনো ভোগান্তি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯৯৪ ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ হাসনাত আবদুল্লাহর

সংসদে জুয়া প্রতিরোধ আইন পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬   ২৯ বার পঠিত
সংসদে জুয়া প্রতিরোধ আইন পাস

ছবি: -সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন এই আইনের মাধ্যমে প্রায় দেড়শ বছর ধরে কার্যকর থাকা ১৮৬৭ সালের ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট’ বাতিল করা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে নতুন আইনে অনলাইন জুয়া, অনলাইন বেটিং, ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভিপিএন, মিরর সাইটসহ ২৪টি বিষয়কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে এটি পাস হয়। এর আগে ২৩ জুন বিলটি সংসদে উপস্থাপনের পর আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছিল। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

আইনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক লেনদেন, ভুয়া সিম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, বায়োমেট্রিক জালিয়াতি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব কার্যক্রম সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে ওঠায় আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

নতুন আইনে ১৪ ধরনের অপরাধের জন্য পৃথক শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সাধারণ জুয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। আর অনলাইন বেটিং পরিচালনা বা সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া জুয়ার আসর পরিচালনা, জুয়ার সরঞ্জাম তৈরি, সংরক্ষণ বা সরবরাহ, বুকমেকার হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা, ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, জুয়ার বিজ্ঞাপন বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, স্পন্সরশিপ এবং ভিপিএন, প্রক্সি বা মিরর সাইট ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনার বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী কারাদণ্ডের পাশাপাশি লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাও আদালতকে দেওয়া হয়েছে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট বা বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। সংঘবদ্ধভাবে বা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে এসব অপরাধ সংঘটিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। জুয়ার অর্থ ব্যাংক, এমএফএস, ডিজিটাল ওয়ালেট, হাওলা, হুন্ডি বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন বা বৈধ করার চেষ্টা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতাভুক্ত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

কোনো প্রতিষ্ঠান, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, হোস্টিং সেবা বা পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, কর্মকর্তা বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিকেও দায়ী করা যাবে। একই সঙ্গে আদালত প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা পাবেন।

নতুন আইনের আওতায় অপরাধে ব্যবহৃত অর্থ, ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইন, সিম ও অন্যান্য ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা যাবে। অনলাইন জুয়া ও বেটিং-সংক্রান্ত মামলার বিচার হবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে এবং অন্যান্য অপরাধের বিচার হবে সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি আদালতে। আইনের আওতাভুক্ত সব অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপস অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া সরকার জনস্বার্থে জুয়া বা বেটিং-সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সার্ভার, ডোমেইন, আইপি ঠিকানা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্লক বা নিষিদ্ধ করতে পারবে। পাশাপাশি জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট ডেটাবেজ, এনআইডি-সিম-এমএফএস সংযুক্তিকরণ ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠনের বিধানও রাখা হয়েছে।

সরকারের আশা, নতুন এই আইন কার্যকর হলে প্রযুক্তিনির্ভর জুয়া, অনলাইন বেটিং, ডিজিটাল আর্থিক প্রতারণা ও অর্থপাচার প্রতিরোধে আরও কার্যকর আইনি কাঠামো গড়ে উঠবে এবং দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার হবে।