ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার রাতেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের জোরালো ইঙ্গিত দিলেন নেইমার জুনিয়র। নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর আবেগঘন এক বার্তায় তিনি জানিয়ে দেন, যে মাঠে তার আন্তর্জাতিক যাত্রার শুরু হয়েছিল, সেখানেই যেন শেষ হলো দীর্ঘ অধ্যায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেইমারের বিদায়ের ইঙ্গিত তুলে ধরেন ইতালির খ্যাতনামা ফুটবল সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো।

রোমানোর ভাষ্য অনুযায়ী, নেইমার বলেন, আমি চেষ্টা করেছিলাম, সত্যিই চেষ্টা করেছিলাম। এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল, আর আজ এখানেই আমি শেষ করলাম। সবকিছু এখন শেষ।

যদিও নেইমার নিজে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অবসর’ শব্দটি ব্যবহার করেননি, তবে তার এই বক্তব্যকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ঘোষণা হিসেবেই দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

২০১০ সালে ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক হওয়া নেইমার টানা চারটি বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হলেও জাতীয় দলের হয়ে গড়েছেন অসংখ্য রেকর্ড। ২০১২ সালে অলিম্পিকে রৌপ্য এবং ২০১৬ সালে ব্রাজিলকে প্রথমবারের মতো অলিম্পিক ফুটবলে স্বর্ণপদক জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ব্রাজিলের হয়ে ১২৯ ম্যাচে ৮০ গোল করে দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন।

ইনজুরি ও ফিটনেস সমস্যার কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিয়মিত একাদশে জায়গা হয়নি নেইমারের। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র দুটি ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের একমাত্র গোলটি করেন, তবে সেই গোল পরাজয় কিংবা বিদায়—কোনোটিই ঠেকাতে পারেনি।

নেইমারের সম্ভাব্য বিদায়ের রাতে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় নরওয়ে। আর ব্রাজিলের অন্যতম সেরা এই তারকার আন্তর্জাতিক অধ্যায়ও শেষের পথে পৌঁছে যায়।