ঢাকা
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
তৃতীয় টার্মিনালে বিমানবাহিনীর গাড়ি দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে গণতন্ত্র ও জনকল্যাণভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান সালাহউদ্দিনের বিমানবাহিনীর ৩ সদস্যের জানাজা অনুষ্ঠিত, আহত ৪ জন সিএমএইচে আগস্টে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩.১৪ শতাংশ অটোরিকশার গ্যারেজে অস্ত্র কারখানা, ক্রেতা সেজে দুইজনকে ধরল পুলিশ ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১,৩২৪ রোগী যাত্রীসেবার মান বাড়াতে নতুন বিধিমালা হচ্ছে : বিমানমন্ত্রী আইন-শৃঙ্খলার পাশাপাশি গঠনমূলক কাজে আনসার-ভিডিপিকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির বিএনপি সংসদীয় গণতন্ত্রও প্রতিষ্ঠা করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিগগিরই সরাসরি সাক্ষাতের আশা ট্রাম্পের

চীন-আমেরিকার নীরব লড়াই

ডেস্ক রিপোর্ট
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬   ৪২ বার পঠিত
চীন-আমেরিকার নীরব লড়াই

ছবি: -সংগৃহীত

ইরান-আমেরিকার বর্তমান উত্তেজনাকে অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি আঞ্চলিক সংঘাত হিসেবে দেখছেন। তবে চীনা বিশ্লেষক প্রফেসর জিয়াং শুয়েকিনের মতে, এই যুদ্ধের প্রকৃত চরিত্র অনেক গভীর। তার দাবি, এটি শুধু তেহরান ও ওয়াশিংটনের লড়াই নয়; বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ বিশ্বব্যবস্থাকে ঘিরে চীন-আমেরিকার বৃহত্তর প্রতিযোগিতার অংশ।

জিয়াংয়ের বিশ্লেষণের কেন্দ্রে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা—ইরান এমন এক কৌশলগত পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি সামরিক পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত চীনের স্বার্থকেও প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি, জ্বালানি সরবরাহ ও মধ্যপ্রাচ্যে চীনের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এই সংঘাতকে আঞ্চলিক সীমার বাইরে নিয়ে গেছে।

তিনি দাবার “ফর্ক” কৌশলের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ইরান এমন এক অবস্থা তৈরি করেছে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র যেদিকেই এগোক, কৌশলগত খরচ এড়াতে পারছে না। যদি আমেরিকা ইরানকে দুর্বল করে, তাহলে চীন তার বড় জ্বালানি অংশীদার ও বেল্ট অ্যান্ড রোড পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হারাবে। আবার চীন যদি ইরানকে বড় পরিসরে সহায়তা দেয়, তাহলে সরাসরি চীন-আমেরিকা সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হবে।

চীনের জন্য বিষয়টি আরও জটিল, কারণ দেশটির বিপুল পরিমাণ তেল হরমুজ প্রণালি হয়ে আসে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা শুধু কূটনৈতিক নয়, চীনের অর্থনীতির ওপরও বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। জিয়াংয়ের মতে, যুদ্ধ শুরু না করেও চীন ইতোমধ্যে এই সংঘাতের অর্থনৈতিক মূল্য দিচ্ছে।

তিনি আরও দাবি করেন, চীন আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষ অবস্থান নিলেও প্রযুক্তি, সরঞ্জাম, স্যাটেলাইট তথ্য ও ডুয়াল-ইউজ সক্ষমতার মাধ্যমে এক ধরনের “ছায়াযুদ্ধ”-এ জড়িয়ে আছে। যদিও এসব দাবির অনেক ক্ষেত্রেই প্রকাশ্য ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সীমিত, তবুও বিশ্লেষণটি চীনা কৌশলগত চিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে।

জিয়াংয়ের মতে, বর্তমান বিশ্ব ধীরে ধীরে একমেরুকেন্দ্রিক মার্কিন ব্যবস্থার বাইরে সরে যাচ্ছে। একদিকে রয়েছে ডলারভিত্তিক ও সামরিক জোটনির্ভর মার্কিন কাঠামো, অন্যদিকে চীনের বহু-মেরুকেন্দ্রিক বাণিজ্য ও অবকাঠামোভিত্তিক বিকল্প বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গি। তার ভাষায়, ইরান যুদ্ধ সেই বৃহত্তর সংঘাতেরই একটি প্রকাশ।

তবে এই বিশ্লেষণের কিছু অংশকে অতিরঞ্জিত বলেও মনে করেন অনেক পর্যবেক্ষক। “মার্কিন সাম্রাজ্যের পতন” বা “তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা” ধরনের বক্তব্য নতুন নয় এবং সেগুলোকে রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবেও দেখা হয়। বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক ও আর্থিক শক্তি, আর চীনও সরাসরি সামরিক সংঘাত এড়িয়ে চলার নীতি বজায় রেখেছে।

জিয়াং শুয়েকিনের বিশ্লেষণকে সরাসরি ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে না দেখে বর্তমান বৈশ্বিক শক্তির টানাপোড়েন বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক পাঠ হিসেবে দেখা যেতে পারে। কারণ, ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আড়ালে সত্যিই বড় প্রশ্নটি এখন চীন-আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা নিয়েই।

September 2026
SMTWTFS
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930