https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় টানা ৯০ মিনিট বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। বুধবার পরিচালিত এ হামলায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করাই ছিল মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, হামলায় বৃহত্তর তুনব দ্বীপের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এবং উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে নির্দিষ্টভাবে আঘাত হানা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব স্থাপনা হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল।
তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি সেন্টকম। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও তাৎক্ষণিকভাবে এ হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য জানানো হয়নি।
এর আগে মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এবং ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলের একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় সাত ঘণ্টাব্যাপী হামলা চালানো হয়েছে।
এর জবাবে বুধবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানসহ অঞ্চলের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, গত সপ্তাহে ইরান হরমুজ প্রণালিতে সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এসব ঘটনায় কয়েকজন নাবিক নিহত, আহত ও নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ইরান আবারও ওই অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। চলমান উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। মঙ্গলবার এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর বুধবারও তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হয়। পরে একটি অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং স্থায়ী শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।