https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বজুড়ে বারবার কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা। কেপ ভার্দে, মিশর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াইয়ের পর এবার সেমিফাইনালেও পিছিয়ে পড়েছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালের প্রথমার্ধে দুই দলই ছিল সতর্ক। আক্রমণের চেয়ে মাঝমাঠের লড়াই ও ফাউলের সংখ্যাই ছিল বেশি। প্রথম ৪৫ মিনিটে কোনো দলই লক্ষ্যে একটি শটও রাখতে পারেনি। আর্জেন্টিনা বল দখলে এগিয়ে থাকলেও লিওনেল মেসি কিংবা ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন কেউই নিজেদের ছাপ রাখতে পারেননি।
বিরতির পর ম্যাচে আসে নাটকীয় মোড়। ৫৫তম মিনিটে ডেক্লান রাইস ও মরগান রজার্সের দারুণ সমন্বয়ের পর অ্যান্থনি গর্ডন গোল করে ইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। দীর্ঘ ৬০ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন তখন স্পষ্ট দেখতে শুরু করে ইংলিশরা।
গোলের পর ইংল্যান্ড রক্ষণাত্মক কৌশল নেয়। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে আর্জেন্টিনা। ৬৯তম মিনিটে মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে নিকোলাস গঞ্জালেজের হেড অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। এরপর ৭৬তম মিনিটে রদ্রিগো দে পলের ক্রসে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
শেষ পর্যন্ত ৮৫তম মিনিটে সমতা ফেরায় আর্জেন্টিনা। কর্নার থেকে মেসির পাস পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে জালে বল পাঠান এনজো ফার্নান্দেজ। পিকফোর্ডের কোনো সুযোগই ছিল না সেই শট ঠেকানোর।
সমতায় ফেরার পর জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে আলবিসেলেস্তেরা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে (৯২ মিনিট) আসে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। দ্রুত আক্রমণ থেকে লাউতারো মার্তিনেজ গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানই ধরে রেখে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। আগামী ১৯ জুলাই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হবে স্পেন। অন্যদিকে, ১৯৬৬ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে ফেরার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো ইংল্যান্ডের।