ঢাকা
১৬ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
জ্বালানি সংকটে বিল দিতে হিমশিম, ১২ কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চায় বিকেএমইএ সাবমেরিন কেবল সংযোগ বিচ্ছিন্ন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট ধীর গ্যাস সংকট পুরোপুরি কাটাতে লাগতে পারে দুই বছর : বাণিজ্যমন্ত্রী কুষ্টিয়া সদর আসনে আগামী পাঁচ বছর আমিই প্রধানমন্ত্রী : আমির হামজা ১০ বছরে জ্বালানি সংকট সমাধানের পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়েও কাজ করছে বিএনপি : সালাহ উদ্দিন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির গতি দেখে উদ্বিগ্ন ইসরায়েল এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জে রেকর্ড আবেদন, পাঁচ দিনেই ছাড়াল ৩ লাখ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরোধে চতুর্থ দিনে রোমাঞ্চের অপেক্ষা তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফেরানো সম্ভব হবে : সামরিক জান্তা

মিয়ানমার উপকূলে নৌকাডুবি, ৫০০ জনের বেশি মৃত্যুর আশঙ্কা জাতিসংঘের

ডেস্ক রিপোর্ট
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬   ২৭ বার পঠিত
মিয়ানমার উপকূলে নৌকাডুবি, ৫০০ জনের বেশি মৃত্যুর আশঙ্কা জাতিসংঘের

ছবি: -সংগৃহীত

মিয়ানমারের উপকূলে পৃথক দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় ৫০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। নিহতদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি নিশ্চিত হলে এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম ভয়াবহ সমুদ্র দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) যৌথ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জুনের শেষ দিকে মিয়ানমারের যুদ্ধবিধ্বস্ত রাখাইন রাজ্য থেকে ৫০০ জনের বেশি আরোহী নিয়ে দুটি নৌযান যাত্রা শুরু করেছিল। যদিও ঘটনাগুলোর আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এখনো হয়নি, তবুও সম্ভাব্য প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাগুলো।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি নৌযানে প্রায় ২৫০ জন এবং অন্যটিতে প্রায় ২৮০ জন আরোহী ছিলেন। প্রথম নৌযানটি যাত্রা শুরুর পরপরই নিখোঁজ হয়ে যায়। দ্বিতীয় নৌযানটি গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের আয়েয়ারওয়াডি উপকূলে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ জানায়, আরোহীদের বেশিরভাগই ছিলেন মিয়ানমারের মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশের কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকেও যাত্রা করেছিলেন।

ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর উত্তর ভারত মহাসাগরে বিপজ্জনক সমুদ্রপথে পাড়ি দিতে গিয়ে ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি রোহিঙ্গার মধ্যে প্রায় ৯০০ জন নিহত বা নিখোঁজ হন।

জাতিসংঘের দুই সংস্থা জানিয়েছে, এবার নৌযাত্রাগুলো নিয়মিত মৌসুমের বাইরে পরিচালিত হয়েছিল, যখন সমুদ্র তুলনামূলক বেশি উত্তাল থাকে। সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতিও সমুদ্রযাত্রাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সর্বশেষ নৌকাডুবির খবর নিশ্চিত হলে চলতি বছরে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ বা নিহত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৮০০-তে পৌঁছাবে। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীর পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

আইওএম ও ইউএনএইচসিআর বলেছে, মিয়ানমারের চলমান সংঘাত, মানবিক সংকট এবং বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে সীমিত সহায়তা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেক রোহিঙ্গাকে জীবনবাজি রেখে সমুদ্রপথে পালাতে বাধ্য করছে। এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় রয়েছে মানবপাচার ও চোরাচালান চক্র।

জাতিসংঘ সমুদ্রে নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে জোরালো অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা, জীবিতদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা এবং মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করে সংস্থাগুলো বলেছে, শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা আরও জোরদার করা এবং রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

August 2026
SMTWTFS
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031