https://timenewsbangla.com

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনে বাংলাদেশ ঋণ ও আমদানিনির্ভর ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এখন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ সব ক্ষেত্রে দেশ পুনর্গঠনের সময় এসেছে।
সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণ বিষয়ক জাতীয় সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের নীতির মূল লক্ষ্য ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’। দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, জেন্ডার সমতা, জলবায়ু সহনশীলতা ও সুশাসনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকার ‘পুনরুদ্ধার-পুনর্বাসন-পুনর্গঠন’ কৌশল গ্রহণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি স্থিতিশীলতা থেকে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যাওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক, স্বল্প আয়ের পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। চলতি মেয়াদে পর্যায়ক্রমে সম্ভাব্য প্রতিটি নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষা ও আর্থিক সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এসডিজি ভিলেজ কার্যক্রমের আওতায় রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপের পানখালী ও দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের নাফানগরকে পাইলট গ্রাম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এসব গ্রামে সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ক্ষুদ্র উদ্যোগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রাম পর্যটন, বৃক্ষরোপণ, খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি একসঙ্গে বাস্তবায়ন ও এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হবে।
সফল হলে এই মডেল দেশের অন্যান্য গ্রামেও সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও নাগরিকদের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
আগামী দিনের রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে অবাধ নির্বাচন, আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে মানবিক এবং অর্থনৈতিক সুযোগ ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করে কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে সবাইকে দৃঢ়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।