https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সেবা খাতের পরিধি আরও বড় হয়েছে। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খাতটির আকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এর আকার ছিল ২৮ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে সেবা খাত বেড়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা বা প্রায় ১১ দশমিক ৫ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে।
দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান এ খাতের মধ্যে রয়েছে পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য, পরিবহন ও সংরক্ষণ, আর্থিক সেবা, আবাসন ও রিয়েল এস্টেট, তথ্যপ্রযুক্তি, হোটেল-রেস্তোরাঁ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিভিন্ন পেশাগত সেবা।
তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরেই ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে সেবা খাতের আকার। ২০২০-২১ অর্থবছরে এর আকার ছিল ১৮ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে হয় ২০ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। পরের অর্থবছরে ২২ লাখ ৯৫ হাজার কোটি, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৫ লাখ ৭২ হাজার কোটি এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছায়।
সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খাতটির আকার ছাড়িয়ে গেছে ৩২ লাখ কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মানুষের আয় ও অভ্যন্তরীণ চাহিদার পরিবর্তনের পাশাপাশি বাণিজ্য, অর্থায়ন, যোগাযোগ, পরিবহনসহ বিভিন্ন সেবার ওপর নির্ভরতা বাড়ায় খাতটির সম্প্রসারণ ঘটছে। কৃষি ও শিল্পের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সেবা খাতের গুরুত্বও ক্রমেই বাড়ছে।
তবে শুধু আকার বাড়লেই সেবা খাতের সক্ষমতা বাড়বে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা জরুরি।
বিশেষ করে ডিজিটাল সেবা, বিপিও, ফিনটেক, লজিস্টিকস, পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা ও পেশাদার সেবার মতো সম্ভাবনাময় খাতে নীতিগত সহায়তা বাড়ানো গেলে উচ্চমূল্যের কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে ধীরগতি ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও উৎপাদনশীল সেবা খাতকে শক্তিশালী করা গেলে তা দেশের মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।