বাংলাদেশিদের ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে জনপ্রতি ১৩ হাজার ইউরো নিত একটি মানবপাচারকারী চক্র। কিন্তু প্রতিশ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার বদলে তাদের ছোট নৌকা কিংবা রাবারের নৌকায় তুলে আটলান্টিক মহাসাগরে পাঠানো হতো। এই অভিযোগে স্পেনে একটি বাংলাদেশি মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে।

বুধবার লাস পালমাসের আদালতে চক্রটির মামলার বিচার শুরু হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এর নেতৃত্বে ছিলেন ‘মাস্টারমাইন্ড’ নামে পরিচিত ৫২ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নাগরিক। মৌরিতানিয়ায় তার একাধিক রেস্তোরাঁ ছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে তাকে মৌরিতানিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্পেনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্পেনের পুলিশের অভিযোগ, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ওই চক্র মৌরিতানিয়া, সাহারা ও মরক্কো থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের উদ্দেশে ৭৩টি নৌযান পাঠায়। এসব নৌযানে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ মানুষ ছিলেন। সমুদ্রযাত্রায় আরও অন্তত ১৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

চক্রের বিরুদ্ধে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ওপর সহিংসতা, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, অপহরণ ও মারধরের অভিযোগও রয়েছে। তাদের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও অনেককে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানে তুলে দেওয়া হতো।

এই মামলায় আরেক বাংলাদেশি নাগরিক এসএমের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। আগামী সপ্তাহে তার বিচার শুরু হওয়ার কথা। তার বিরুদ্ধে তিনটি নৌযান সংগঠনে সহায়তা এবং বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যাত্রার আগে মৌরিতানিয়ায় থাকার ব্যবস্থা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই তিন নৌযানে মোট ১৬৬ জন ছিলেন, যার মধ্যে ১৪ জন বাংলাদেশি ও তিনজন পাকিস্তানি নাগরিক।

কৌঁসুলিদের অভিযোগ, এসএম ‘মাস্টারমাইন্ড’-এর রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন এবং অভিবাসনপ্রত্যাশীদের থাকার ব্যবস্থা করে প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০০ ইউরো করে নিতেন। ২০২২ সালের অক্টোবরে গ্রান কানারিয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকা থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জগামী নৌযানে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি নাগরিকদের সংখ্যা বাড়ায় মানবপাচার চক্রগুলোর এশিয়াভিত্তিক কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত জোরদার করেছে স্পেনের কর্তৃপক্ষ।