প্রিয় সহকর্মীর সঙ্গে শেষ দেখাও যে শেষ দেখা হয়ে যাবে, তা কি জানতেন রাজপাল যাদব? মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে হাসপাতালে শয্যাশায়ী মুস্তাক খানের পাশে বসেছিলেন এই অভিনেতা। হাত ধরে কথা বলেছেন, নিজের কথা শুনিয়েছেন, আর মুস্তাকও দিয়েছেন সাড়া। কিন্তু সেই সাক্ষাতের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই না ফেরার দেশে চলে যান বলিউডের পরিচিত এই অভিনেতা।

মুস্তাক খানের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেষ সাক্ষাতের স্মৃতি তুলে ধরেছেন রাজপাল যাদব। আবেগঘন এক পোস্টে তিনি জানান, মৃত্যুর দিন দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে মুস্তাকের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেছিলেন। এমনকি দুজনের মধ্যে হাত মেলানোও হয়েছিল। রাজপাল যা বলছিলেন, মুস্তাক মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন এবং সাড়াও দিচ্ছিলেন।

রাজপাল লেখেন, দুপুরে মুস্তাক ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি। অনেকক্ষণ কথা হয়েছে, হাতও মিলিয়েছেন। মুস্তাক তার সব কথা শুনছিলেন এবং প্রতিক্রিয়াও জানাচ্ছিলেন। অথচ মাত্র দুই ঘণ্টা পরই জানতে হলো, প্রিয় মানুষটি আর নেই। এই বাস্তবতা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি।

মুস্তাকের মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর প্রথমে হাসপাতালের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন রাজপাল। পরে সেটি সরিয়ে মুস্তাকের একটি ছবি দিয়ে প্রয়াত সহকর্মীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। লেখেন, পরমেশ্বরের ইচ্ছার কাছে সবাইকে মাথা নত করতে হয়। একই সঙ্গে মুস্তাকের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

বলিউডে দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন মুস্তাক খান। তবে ‘ওয়েলকাম’ সিনেমায় তার অভিনীত চরিত্র এবং ‘মেরা এক টাং নকলি হ্যায়’ সংলাপটি দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

৫৬ বছর বয়সী মুস্তাক দীর্ঘদিন ধরে যকৃতের ক্যান্সারে ভুগছিলেন। মৃত্যুর আগে প্রায় ১৫ দিন মুম্বাইয়ের নানাবতী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ২৪ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বলিউডে নেমে আসে শোকের ছায়া।