তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত সার্কভিত্তিক আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বহুপক্ষীয় স্বার্থনির্ভর কূটনীতিই বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশীয় ও বৈশ্বিক বাস্তবতায় ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন নির্জোট কূটনীতি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে পিআইবি ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির বাস্তবতা বহুমাত্রিক। আমদানিতে চীন ও ভারতের ওপর নির্ভরতা, রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজার, রেমিট্যান্সে মধ্যপ্রাচ্যের ভূমিকা এবং জ্বালানি নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এমন একটি স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থান প্রয়োজন, যা সব পক্ষের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসনব্যবস্থা ও কূটনৈতিক স্থবিরতা থেকে দেশকে বের করে বহুদলীয় গণতন্ত্র, উন্মুক্ত অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন।
তথ্যমন্ত্রী জাতীয় স্বকীয়তা ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের পরিচয় ও স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী ও স্বাধীন অবস্থানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের স্বার্থ সুরক্ষা ও অবস্থান সুসংহত করার ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি ছিল অত্যন্ত সফল এবং তাঁর সময়কাল বাংলাদেশের কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
আলোচনা সভায় অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান, বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রুশদ, ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন খাতের বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন।