ঢাকা
০৬ জুন ২০২৬
শিরোনাম

প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর ইঙ্গিত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬   ১৬ বার পঠিত
প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর ইঙ্গিত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে এবং এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

হাকান ফিদান জানান, বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রায় ১.৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশ অভিন্ন অবস্থান ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত হয়েছে বলেও জানান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে হাকান ফিদান বাংলাদেশের প্রশংসা করে বলেন, এক দশকের কাছাকাছি সময় ধরে বাংলাদেশ ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক দায়িত্বের একটি অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান খুঁজতে তুরস্ক সংশ্লিষ্ট দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছে।

তিনি আরও বলেন, তুরস্ক মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের পক্ষে সমর্থন দিয়ে যাবে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে হাকান ফিদান বলেন, আঞ্চলিক সংকট এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে বেশি প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুধু অঞ্চল নয়, বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলেছে।

তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, এসব আলোচনা স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার ভিত্তি তৈরি করবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেকোনো বিরোধের সমাধান কেবল আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব। এ লক্ষ্যে তুরস্ক আঞ্চলিক দেশগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করেছে। তিনি পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন এবং তা সমর্থনের কথা জানান।

ফিলিস্তিন পরিস্থিতি প্রসঙ্গে হাকান ফিদান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি যুদ্ধ বন্ধে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি অভিযোগ করেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর সরকার দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পথে বাধা সৃষ্টি করছে এবং গাজায় চলমান সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ক ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। নতুন নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

সফর উপলক্ষে বাংলাদেশের সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ ও সুরক্ষা বিষয়ে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে বলেও জানান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

June 2026
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930