মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রত্যাবাসন ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার জন্য দুই দিনের সফরে দেশটিতে গেছেন মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং। বুধবার সকালে নেপিদোর সামরিক বিমানবন্দর থেকে তিনি মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

সফরে তিনি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে একটি ব্যবসায়িক সংলাপে অংশ নেবেন। প্রায় ১,৫০০ মিয়ানমার নাগরিক মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরার চার দিনের মাথায় তাঁর এই সফর হচ্ছে।

মালয়েশিয়া জানিয়েছে, ধাপে ধাপে প্রায় ৫,০০০ মিয়ানমার নাগরিক দেশে ফিরতে সম্মত হয়েছেন। তবে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, মিয়ানমারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া ব্যক্তিরা নিপীড়ন বা জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে নিয়োগের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

ফেরত যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রোহিঙ্গা আছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। মালয়েশিয়ায় ইউএনএইচসিআরের নিবন্ধিত প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার ৬০০ শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা।

মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার এবং প্রত্যাবাসনকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অংশ হিসেবে দেখছে মালয়েশিয়া। তবে অধিকারকর্মী ও পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, মিয়ানমারের চলমান সংঘাতের সমাধান ছাড়া প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডির বিশ্লেষক সিন্ডি আজারা বলেছেন, গৃহযুদ্ধ অবসানে কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া এই প্রত্যাবাসন বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের জন্য তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে।