ছবি: -সংগৃহীত
দীর্ঘ ১৫ বছর পর দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের সিরিজ, যেখানে শুধু সিরিজ জয়ের লড়াই নয়, প্রায় দুই দশকের আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগও দেখছে বাংলাদেশ।
ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয়। ২২ ম্যাচে মাত্র একবার জয় পেয়েছে টাইগাররা। সেই স্মরণীয় জয়টি এসেছিল ২০০৫ সালে কার্ডিফে। এরপর বহু বছর পেরিয়ে গেলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাফল্যের সংখ্যা আর বাড়েনি।
তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলছে বাংলাদেশ। টানা সিরিজ জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। বিশেষ করে পেস আক্রমণে এসেছে নতুন শক্তি। নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
এ বছরের ছয়টি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পেসাররা ৬৯ উইকেট নিয়েছেন মাত্র ২২.৬০ গড়ে। বিপরীতে স্পিনারদের ঝুলিতে এসেছে ২৬ উইকেট। একসময় স্পিননির্ভর দল হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ এখন পেস শক্তির ওপরও সমানভাবে নির্ভর করছে।
অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের বড় টুর্নামেন্টগুলোর কথা মাথায় রেখে দল ভালো উইকেটে খেলতে চায়। তাঁর মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ উইকেটে ভালো খেলা বিশ্বকাপ প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়াও এই সিরিজে পূর্ণশক্তির দল নিয়ে আসেনি। দলে নেই তারকা পেসার মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্স। চোটের কারণে ছিটকে গেছেন অধিনায়ক মিচেল মার্শ এবং পারিবারিক কারণে খেলছেন না ট্রাভিস হেড। ফলে তুলনামূলক অনভিজ্ঞ একটি অস্ট্রেলিয়ান দলকে মোকাবিলা করবে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের জন্য অবশ্য বড় চিন্তা মিডল অর্ডারের ধারাবাহিকতা। সেই ঘাটতি পূরণে চার বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরেছেন মোসাদ্দেক হোসেন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ব্যাট ও বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই তাঁর প্রত্যাবর্তন। একাদশেও সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ মাথায় রেখেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা জোরালো করতে এই সিরিজের প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়েরও এটি বড় মঞ্চ।
মিরপুরে আজকের ম্যাচ তাই শুধুই একটি সিরিজের সূচনা নয়; বরং ২১ বছরের অপেক্ষার নতুন অধ্যায়, যেখানে ইতিহাস বদলের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।