ছবি: -সংগৃহীত
ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কের মধ্যে জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, একসময় যাঁরা ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন, এখন সেই নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা থেকেই বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
মঙ্গলবার সংসদে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ বন্ধের বিষয়ে উত্থাপিত এক নোটিশের ওপর আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসলামী ব্যাংক কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। তিনি মন্তব্য করেন, ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিকানা দাবি করা যৌক্তিক নয়।
আলোচনায় তিনি ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ব্যাংকটির বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ঋণ বিতরণ, নিয়োগ, পদোন্নতি এবং কিছু আর্থিক লেনদেন।
তিনি জানান, আরডিএস প্রকল্পের আওতায় বিপুল পরিমাণ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে দেওয়া ঋণ এবং সিএসআরের নামে কিছু ব্যয়ের বিষয়েও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতে ব্যাংকটিতে প্রায় ৯ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয় এবং পরে কয়েক হাজার নতুন নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া হয়। এসব সিদ্ধান্তের বৈধতা ও প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি জানান।
শেয়ার মালিকানার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের শেয়ার অর্জনের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা তদন্তের বিষয় হতে পারে, তবে আইনগতভাবে শেয়ারধারীদের অধিকার অক্ষুণ্ন থাকে। প্রকৃত ও বৈধ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
এ সময় তিনি দেশের ব্যাংক খাত থেকে অর্থ পাচারের অভিযোগগুলোরও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান। তাঁর মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে সব ধরনের অর্থ পাচারের ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তবে নতুন কোনো অভিযোগ এলে তা যথাযথভাবে তদন্ত করা হবে।