ছবি: -সংগৃহীত
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্য উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরে সরকারি ব্যয়ের কাঠামোয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো এবং পরিচালন ব্যয় তুলনামূলকভাবে কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য ৩ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে পরিচালন ব্যয় ও অন্যান্য খাতে ব্যয়ের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী জানান, অর্থনীতির উৎপাদনশীল খাত ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই সরকার ধীরে ধীরে বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করছে। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী অর্থবছরে মোট ব্যয়ের ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশ উন্নয়ন খাতে ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ।
একই সঙ্গে সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতে পরিচালন ব্যয়ের অংশ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে মোট ব্যয়ের ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ পরিচালন খাতে ব্যয় হলেও আগামী অর্থবছরে তা কমিয়ে ৬৬ দশমিক ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতে, উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধির এই কৌশল দেশের অবকাঠামো, কর্মসংস্থান, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় অধিক শৃঙ্খলা ও দক্ষতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নতুন অর্থবছরের বাজেট ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। সরকারের প্রত্যাশা, এই বাজেট অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।