ছবি: -সংগৃহীত
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ক ও কর কাঠামোয় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এসব পরিবর্তনের ফলে কিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে, আবার কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে ভোক্তারা স্বস্তি পেতে পারেন।
নতুন বাজেটে সিগারেটের সব স্তরের ন্যূনতম খুচরা মূল্য বৃদ্ধি এবং নিকোটিনজাত পণ্যের ওপর উচ্চ হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়বে।
এ ছাড়া ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসি ক্ষমতার পেট্রোল ও ডিজেলচালিত আমদানি করা গাড়ির করভার বাড়ানো হয়েছে। এতে মধ্যম সারির তেলচালিত গাড়ির দাম বৃদ্ধি পেতে পারে।
দেশীয় উৎপাদন সুরক্ষার লক্ষ্যে বিদেশি কাজুবাদাম, পাঙাশ মাছের ফিলে, মধু, সুপারি ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের বাজারদর বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কম্পোজিট গ্যাস সিলিন্ডার, বিদেশি টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার, বেসিন, ফোম, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, সাইকেল, খেলনা এবং কিছু প্রসাধনী পণ্যের দামও বাড়তে পারে।
রড তৈরির কাঁচামালের ওপর ভ্যাট বৃদ্ধির কারণে নির্মাণসামগ্রীর বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে।
জনসাধারণকে স্বস্তি দিতে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, মাছ, মাংস ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য।
মসলা জাতীয় পণ্যের মধ্যে জিরা, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, গোলমরিচ ও ধনিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। খেজুর আমদানিতেও একই সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
সোনার অলংকারে ভ্যাট কাঠামো সহজ করা হয়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সোনার গয়না কেনার খরচ কমতে পারে।
বৈদ্যুতিক গাড়ি ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপর বড় ধরনের করছাড় দেওয়া হয়েছে। চার্জিং স্টেশন স্থাপনের সরঞ্জামেও শুল্ক সুবিধা থাকায় এই খাত আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।
ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, মনিটর ও প্রিন্টার আমদানির ওপর অধিকাংশ শুল্ক ও কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে প্রযুক্তিপণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করায় কিডনি রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমতে পারে। পাশাপাশি ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল এবং ক্যানসারের ওষুধ তৈরির উপকরণ আমদানিতে করসুবিধা দেওয়ায় ওষুধের উৎপাদন ব্যয়ও কমতে পারে।
এ ছাড়া গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র এবং চলচ্চিত্র নির্মাণে ব্যবহৃত ক্যামেরা ও যন্ত্রাংশ আমদানিতেও শুল্ক কমানো হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে এবারের বাজেটে কর ও শুল্ক হ্রাসের আওতায় থাকা পণ্যের সংখ্যা বেশি। ফলে নিত্যপণ্য, প্রযুক্তিপণ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ক্ষেত্রে ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।