ঢাকা
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে ৩৪.৬৯ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

ডেস্ক রিপোর্ট
সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬   ৩১ বার পঠিত
ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে ৩৪.৬৯ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

ছবি: -সংগৃহীত

গ্রাহক ও সাব-এজেন্টদের কাছ থেকে বিমান টিকিটের অগ্রিম অর্থ নেওয়ার পর টিকিট সরবরাহ না করার অভিযোগে অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্ট (এফইবিডি)-এর বিরুদ্ধে প্রায় ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার টাকার মানিলন্ডারিং মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে রাজধানীর মতিঝিল থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে প্রতিষ্ঠানটির সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিআইডির মিডিয়া বিভাগ।

মামলার আসামিরা হলেন—প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম, প্রেসিডেন্ট এম এ রশিদ শাহ সম্রাট, পরিচালক আমির হামজা রশিদ শাহ নায়েম, এ কে এম শাহদাত হোসেন, আব্দুল গণি মেহেদী, হেড অব ফাইন্যান্স মো. সাকীব হোসেন এবং সোমা ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেসের স্বত্বাধিকারী মোতাহের হোসেন।

সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে অনলাইনে বিমান টিকিট বিক্রির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ফ্লাইট এক্সপার্ট। পরে প্রতিষ্ঠানটি হোটেল বুকিং, হজ-ওমরাহ প্যাকেজসহ বিভিন্ন ভ্রমণসেবা চালু করে। ২০১৯ সালে এফইবিডি নামে যৌথমূলধনী কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হলেও ব্যবসা ও ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করত ফ্লাইট এক্সপার্ট এবং এফইবিডি—উভয় নামেই।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রতিষ্ঠানটি আকর্ষণীয় মূল্যছাড়ের ঘোষণা দিয়ে দেশজুড়ে গ্রাহক ও সাব-এজেন্টদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করলেও অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিমান টিকিট সরবরাহ করেনি। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম ২০২৫ সালের ১ আগস্ট দেশ ছেড়ে চলে যান।

সিআইডি জানিয়েছে, এফইবিডির বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া অর্থ পরে ফ্লাইট এক্সপার্টের অন্যান্য হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এরপর বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে অর্থ স্থানান্তর, উত্তোলন ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত উৎস, মালিকানা ও উদ্দেশ্য গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ মিলেছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেশত্যাগের পরও প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন পরিচালক ও হেড অব ফাইন্যান্স বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করেছেন। এসব লেনদেনের মাধ্যমে প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ আত্মসাতের প্রমাণও পাওয়া গেছে।

সিআইডি আরও বলছে, ফ্লাইট এক্সপার্ট বিভিন্ন আইএটিএ অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সি থেকে টিকিট সংগ্রহ করলেও বহু ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে পুরো মূল্য নেওয়ার পরও টিকিট ইস্যু করা হয়নি। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই টিকিটের বিপরীতে একাধিক উৎস থেকে অর্থ নেওয়ার ঘটনাও শনাক্ত হয়েছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যাংকিং লেনদেনের মাধ্যমে সেই অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করছে সিআইডি।

মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

September 2026
SMTWTFS
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930