https://timenewsbangla.com

ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে ইরানের সঙ্গে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। তবে আলোচনা ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে এবং খুব শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তিনি নিজেই আলোচনায় যুক্ত আছেন এবং পরিস্থিতি ভালোভাবে এগোচ্ছে। তার দাবি, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
তবে ট্রাম্পের এমন আশ্বাস এবারই প্রথম নয়। গত কয়েক দিন ধরে বারবার চুক্তির সম্ভাব্য সময়সীমা জানিয়েছেন তিনি। প্রথমে সোমবারের মধ্যে সমঝোতার কথা বলা হয়। পরে মঙ্গলবার, এরপর বুধবার বা বৃহস্পতিবারের মধ্যে চুক্তি হতে পারে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু নির্ধারিত কোনো সময়সীমাতেই চুক্তি হয়নি।
এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়। ফলে দীর্ঘ সময় এটি বন্ধ বা সীমিত থাকলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দামের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ বহাল থাকবে। অর্থাৎ আলোচনার পাশাপাশি তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপও অব্যাহত রাখছে ওয়াশিংটন।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের কাছ থেকে সম্ভাব্য সমঝোতার আশ্বাস পাওয়ার পর ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করেছিলেন ট্রাম্প। এরপর থেকেই তিনি দ্রুত চুক্তির সম্ভাবনার কথা বলে আসছেন।
তবে এখনো সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের অবস্থানের পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে বিরোধ সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে। ইরান প্রণালির ওপর নিজেদের নিরাপত্তাগত কর্তৃত্ব বজায় রাখতে চাইছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে অনড়।
ট্রাম্প ইরানের ওপর সামরিক চাপের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, তেহরান দীর্ঘদিন এই চাপ সহ্য করতে পারবে না। তার ভাষায়, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ইরানের পক্ষে আর বেশিদিন বর্তমান পরিস্থিতি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।
অন্যদিকে ইরান বারবার জানিয়েছে, চাপ বা হুমকির মুখে তারা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে যাবে না। ফলে ট্রাম্প যতই দ্রুত চুক্তির সম্ভাবনার কথা বলুন, হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংকটের বাস্তব সমাধান এখনো অনিশ্চিত।