https://timenewsbangla.com

ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->
থাইল্যান্ডের একটি স্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় এক শিক্ষকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। নিহত অপরজন হামলাকারী শিক্ষার্থী নিজেই। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় ননথাবুরি প্রদেশের বাং কুরাই জেলার একটি পরিচিত স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। হামলার সময় স্কুলে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চলছিল। ফলে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
ননথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা দেচরাপি কংদি সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিকভাবে ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পরে আহতের সংখ্যা ১৫ বলে জানা যায়। হামলাকারীর পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে তার বয়স আনুমানিক ১৪ বছর এবং সে স্কুলটির নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, স্কুল ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফাঁকা কক্ষ থেকে ওই শিক্ষার্থী গুলি চালায়। সে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দ ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত স্কুল ভবন থেকে বেরিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান। একপর্যায়ে হামলাকারী নিজেই আত্মহত্যা করে।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা স্কুলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ কর্মকর্তা পাসাকর্ন চাইতাউইয়ং জানিয়েছেন, হামলার পেছনে কী কারণ ছিল, তা এখনো পরিষ্কার নয়। ব্যক্তিগত বিরোধ, মানসিক চাপ কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনার পর স্কুল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। হামলাকারী কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্রটি পেল এবং সেটি তার নিজের ছিল নাকি অন্য কারও কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
থাইল্যান্ডে আগ্নেয়াস্ত্রের সহজলভ্যতা দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগের বিষয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বেসামরিক পর্যায়ে দেশটিতে আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানা তুলনামূলকভাবে বেশি। সরকারি হিসাবে, দেশটিতে সাধারণ নাগরিকদের হাতে প্রায় এক কোটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। প্রতি সাতজন বাসিন্দার মধ্যে প্রায় একজনের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকার তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ফলে স্কুলে এমন হামলার ঘটনা দেশটির নিরাপত্তা ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে মাত্র ১৪ বছর বয়সী একজন শিক্ষার্থীর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছানো কীভাবে সম্ভব হলো, এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে থাই কর্তৃপক্ষ।