https://timenewsbangla.com

ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেই নাগরিকত্ব পাওয়ার দীর্ঘদিনের নিয়মে বড় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব সীমিত করতে বৃহস্পতিবার একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, দেশটির ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া অধিকাংশ শিশুই জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়ে থাকে। ১৮৬৮ সালে গৃহযুদ্ধের পর এই সাংবিধানিক বিধান কার্যকর করা হয়। দাসপ্রথার বিলোপের পর সাবেক দাসদের সন্তানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, এই বিধানের সুযোগ নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বেড়েছে। অর্থাৎ বিদেশি দম্পতিরা শুধু সন্তান জন্ম দেওয়ার মাধ্যমে সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রে আসছেন।
এই প্রবণতা ঠেকাতেই নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন ট্রাম্প। তার প্রশাসনের দাবি, বিশেষ করে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আসা বিদেশি দম্পতি এবং কিছু নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিক এই পরিবর্তনের আওতায় পড়বেন।
আদেশে স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প বলেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিধানের অপব্যবহার দীর্ঘদিন ধরে চলছে এবং তা বন্ধ করা প্রয়োজন।
অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার বিদেশি দম্পতি সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে দাবি সংস্থাটির।
তবে ট্রাম্পের এই উদ্যোগ শুরু থেকেই আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ২০২৫ সালে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার পর ফেডারেল আদালতগুলো তা স্থগিত করেছিল। আদালতগুলোর পর্যবেক্ষণ ছিল, নির্বাহী আদেশটি মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
এ নিয়ে আবারও আদালতে আইনি লড়াই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মানবাধিকার ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ১৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কার্যকর থাকা সাংবিধানিক অধিকার শুধু নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সীমিত করা যায় কি না, সেটিই হবে মূল আইনি প্রশ্ন।